সীমান্তঘেষা তাহিরপুর উপজেলার অপরূপ নিলাদ্রী লেক সারা দেশের পর্যটনপ্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণ। সারা বছর দেশ–বিদেশ থেকে হাজারো মানুষ পাহাড় ঘেরা সবুজ লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। কিন্তু প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে টেকেরঘাট এলাকার জরাজীর্ণ সড়ক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। অসংখ্য গর্ত, ফাটল আর উঁচু–নিচু পৃষ্ঠে পথচারী ও যানবাহন চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্ষা মৌসুমে গর্তগুলোতে পানি জমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা, যা প্রায়ই দুর্ঘটনা ডেকে আনে এবং যানবাহনের ক্ষতি করে।
পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা–বাণিজ্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিদিনই নিলাদ্রী লেকগামী পর্যটকদের ভোগান্তির শেষ নেই। ফলে এলাকাবাসী ও পর্যটকরা দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় এক দোকানি বলেন, “প্রতিদিন গর্তে পড়ে গাড়ির চাকা নষ্ট হয়, ভাঙে সাসপেনশন। দুর্ঘটনা তো নিত্যদিনের ঘটনা।” তাহিরপুর উপজেলা এবং সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কাছে পর্যটন উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
পর্যটকরা মনে করছেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এই স্পটের জনপ্রিয়তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিলাদ্রী লেকের মতো একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রের প্রবেশপথের এই করুণ অবস্থা দেশের পর্যটন শিল্পের জন্যও একটি বড় ধাক্কা। পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে এখানে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতো, বাড়ত সরকারি রাজস্বও। কিন্তু দীর্ঘ অবহেলা ও যথাযথ পরিকল্পনার অভাবে সেই সম্ভাবনা আজ হুমকির মুখে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, এই সড়ক সংস্কার কেবল পর্যটকদের সুবিধার জন্য নয়, পুরো এলাকার জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত জরুরি। দ্রুত সংস্কার না হলে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় এই গন্তব্য হয়তো অচিরেই পর্যটকদের কাছে অনাকর্ষণীয় হয়ে উঠবে, যা স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও হবে ভয়াবহ ক্ষতির কারণ।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের দাবি, জরাজীর্ণ এই সড়ক সংস্কারে যদি দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে নিলাদ্রী লেক এবং পার্শ্ববর্তী লাউড়েরগড়, বারিকটিলা, যাদুকাটা নদীর মতো আরও অনেক স্পট দেশি–বিদেশি পর্যটকদের কাছে নতুনভাবে উন্মোচিত হবে, যা সুনামগঞ্জকেই নয়, সমগ্র বাংলাদেশকে বিশ্বমানের পর্যটন মানচিত্রে স্থায়ী আসন দেবে।