যোগদানের ১৩ দিনের মাথায় শোলমারী নদী ও ১০ ভেল্ট রেজুলেটর পরিদর্শন করলেন নবাগত জেলা প্রশাসক প্রকৌশলী মো: তৌফিকুর রহমান। বিলডাকাতিয়া সহ ডুমুরিয়া – ফুলতলার জলাবদ্ধতা নিরসনে অংশীজনদের সাথে মিলিত হলেন মতবিনিময় সভায়। গতকাল সকাল ১১ টায় তিনি সরাসরি নদীর তীরে ভরাট শোলমারী খনন কাজ পরিদর্শন করেন। নদীতে মানব সৃষ্ট বেশ কয়েকটি বিষয়ে সেখানে সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। পরে তিনি ১০ ভেল্ট রেগুলেটর, উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সেচ পাম্প ও নদীর চরে পড়ে থাকা অকেজো ড্রেজার মেশিন পরিদর্শন করেন। বেলা ১২ টায় শোলমারী রেগুলেটরের পুর্ব পাশে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। বিলডাকাতিয়া সহ ডুমুরিয়া – ফুলতলার জলাবদ্ধতা এলাকার দু’শতাধীক অংশীজন এবং সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি দপ্তর প্রধান এ সভায় অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল আমিন।এসময় জেলা প্রশাসক প্রকৌশলী মো: তৌফিকুর রহমান বলেন, ” দীর্ঘ মেয়াদি কিছু করার আগে সঠিক পরিকল্পনা জরুরি। আমরা সব সময় উন্নত দেশের উদাহরণ তুলে ধরি কিন্তু তারা ৫০ বছর বা ১০০ বছর পরে কি হবে সে অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে। অন্য দিকে আমাদের দেশে অল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত কাজ করতে গিয়ে অনেক পরিকল্পনা ভুল হয়। ৪০ বছর আগে এ এলাকার পরিস্থিতি এমন ছিল না। এখন জনসংখ্যা বেড়েছে, নতুন নতুন বাড়ি, স্থাপনা বেড়েছে, মাছের ঘের বেড়েছে। অনেকে নদী খালের জায়গা দখল করে বসে আছে। এভাবে ধীরে ধীরে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটেছে। পরিবেশ বিপর্যয়ের কারনে ছয় ঋতুর পরিবর্তন এখন আমরা অনুভব করতে পারি না। আর পরিবেশের এই বিপর্যয়ের জন্য মানুষই দায়ী। এগুলো সমাধান করা হঠাৎ সহজ নয়। বিলডাকাতিয়া সহ ডুমুরিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানে পৌছাতে বেশ সময় লাগবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ” ইতিমধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪৯ কোটি টাকার মধ্য মেয়াদি একটি প্রকল্প প্লানিং কমিশনে রয়েছে। স্থায়ী সমাধানের পথে আমরা যেতে চাই। সেক্ষেত্রে আরোও অনেকবার জনগনের সাথে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে মতবিনিময় হতে পারে। এনিয়ে বিশেষজ্ঞদের অনেক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘ মেয়াদি টেকসই সমাধান হবে”। ডুমুরিয়া সহকারী কমিশনার ( ভুমি) অপ্রতিম কুমার চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, খুলনা পাউবো’র দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বিএম আব্দুল মমিন, পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল কুমার সেন, বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মো : জামাল ফারুক উপজেলা কৃষি অফিসার ইনসাদ ইবনে আমিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এস এম আবু আব্দুল্লাহ বায়েজিদ, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা সর্দার জাহিদুর রহমান এবং জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও করনিয় বিষয় তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন, রংপুর ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সমরেশ মন্ডল, উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক জি এম আমান উল্লাহ, ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর আলম, সদর ইউপি চেয়ারম্যান গাজী হুমায়ুন কবীর বুলু, রঘুনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান, মনোজিত বালা, সাংবাদিক সুব্রত কুমার ফৌজদার, ফিরোজ আহমেদ, শিক্ষক নিত্তানন্দ মন্ডল, জেলা কৃষক দলের সভাপতি মোল্লা কবির হোসেন, খুলনা কৃষক ফোরামের সভাপতি মো : মজনু শেখ, উওর বিল কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য মোঃ লুৎফর রহমান মোড়ল, সুজিত মল্লিক, ইউপি সদস্য তরুন মন্ডল, শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিএনপি নেতা আব্দুর রব আকুঞ্জি, শিবির নেতা এ্যাড: আলমগীর হোসেন, শিক্ষক মোস্তাক হোসেন চৌধুরী, সুকলাল বিশ্বাস, ইউপি সদস্য আমজাদ ফকির, দেবাশীষ মন্ডল ও হুমায়ুন শেখ প্রমুখ।