রাঙামাটির তবলছড়ির একটি স্কুল প্রাঙ্গণ গত শুক্রবার দুপুরে রঙিন হয়ে উঠেছিল তরুণদের প্রাণচাঞ্চল্যে। কচি মুখগুলোতে ছিল দৃঢ় অঙ্গীকার নিরাপদ ধরিত্রী, সবুজ অরণ্য নিশ্চিত করবে দুর্জয় তারুণ্য।
সামাজিক সংগঠন Youthnet Global-এর উদ্যোগে আয়োজিত Climate Literacy Workshop যেন তরুণদের জন্য হয়ে উঠল এক নতুন অনুপ্রেরণার মঞ্চ। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে মুক্ত একটি নিরাপদ পৃথিবীর স্বপ্নে তারুণ্যের কণ্ঠ মিলল একই সুরে।
রাঙামাটি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি অভিঘাতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। প্রতিবছরই বৃষ্টিপাতের ধরণ বদলে যাচ্ছে, পাহাড় ধসছে অল্প বৃষ্টিতেই, অনিয়মিত আবহাওয়া কৃষিকে বিপর্যস্ত করছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত এক দশকে রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছে কয়েকশ মানুষ। বন উজাড় ও নির্বিচারে পাহাড় কাটার কারণে এই ঝুঁকি দিন দিন আরও বাড়ছে। স্থানীয় মানুষ বলছেন, প্রকৃতির এই রুদ্ররূপই তরুণ প্রজন্মকে এখন পরিবেশ আন্দোলনে নামতে বাধ্য করছে।
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় তরুণ-তরুণীরা শিখেছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, টেকসই উন্নয়ন ও স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ রক্ষায় কীভাবে কাজ করা যায়।
এক অংশগ্রহণকারী কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, আমরা অনেক সময় ভেবেই পাই না, এত বড় সমস্যা আমরা কীভাবে সমাধান করব। কিন্তু আজ বুঝলাম ছোট ছোট উদ্যোগের মাধ্যমেই পরিবর্তন শুরু করা সম্ভব। গাছ লাগানো, প্লাস্টিক বর্জন বা পানি অপচয় রোধ করা এসবই বড় কাজ।”
কর্মশালায় আলোচকরা বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বে জলবায়ু ঝুঁকিতে সবচেয়ে শীর্ষে থাকা দেশগুলোর একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি উভয়ই এখানে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
রাঙামাটির পাহাড়ি প্রেক্ষাপট আলাদা করে ব্যাখ্যা করে বক্তারা উল্লেখ করেন। প্রকৃতি বাঁচাতে হলে বন রক্ষা করতে হবে, অরণ্য সবুজ রাখতে হবে। তরুণ প্রজন্ম এগিয়ে এলে একদিন পাহাড়ও আবার তার হারানো ভারসাম্য ফিরে পাবে।
Youthnet Global-এর প্রতিনিধিরা জানান, তারা নিয়মিতভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে Climate Literacy Workshop আয়োজন করছে। তাদের লক্ষ্য—তরুণদের হাতে জলবায়ু ন্যায়বিচারের পতাকা তুলে দেওয়া। এক আয়োজক বলেন,
শুধু বক্তৃতা বা শ্লোগান নয়, আমরা চাই তরুণরা যেন বাস্তব জীবনে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নেয়। তাদের হাত ধরেই ভবিষ্যতের সবুজ আন্দোলন গড়ে উঠবে।
সনদ বিতরণের শেষে এক অনন্য দৃশ্য। সব তরুণ-তরুণী দাঁড়িয়ে সমস্বরে প্রতিজ্ঞা করলেন। আমরা প্রতিজ্ঞা করছি, প্রকৃতি ও অরণ্য রক্ষার আন্দোলনে সক্রিয় থাকব। তবলছড়ির আকাশে প্রতিধ্বনিত সেই কণ্ঠ যেন পুরো রাঙামাটি শহরের বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল। পাহাড়ের নীল আকাশ আর তরুণদের উচ্ছ্বাসে সেদিন মনে হচ্ছিল পরিবেশ রক্ষার এই সংগ্রাম থেকে জন্ম নেবে এক নতুন আশার পৃথিবী।