মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলো দগ্ধ শিক্ষার্থী মাহিয়া তাসনিম মায়া (১৪)।
২৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। অত্র বিদ্যালয়ের সে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, মাহিয়ার শ্বাসনালিসহ শরীরের ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। ক্রিটিক্যাল অবস্থায় ছিল। নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত মাহিয়া তাসমিন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানার কুড়ুলগাছি গ্রামের প্রয়াত ইঞ্জিনিয়ার আলী বিশ্বাসের মেয়ে। ঢাকার উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক প্রজেক্টের ডি-ব্লকে মা আফরোজা খাতুন এবং ফুফুদের সঙ্গেই থাকতেন।
এদিকে, ২৫ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নানা বাড়ি মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামে জানাযার নামায শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়। জানাযার নামাযে অংশ নেন, মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের অতিরিক্ত প্রশাসক (সার্বিক) তরিকুল ইসলাম, মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পলাশ মন্ডল, মুজিবনগর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মিজানুর রহমানসহ আত্মীয় স্বজন এবং শতশত বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষ।
এর আগে, বৃহস্পতিবার ভোরে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মাহিয়া তাসনিমের মরদেহ প্রথমে দাদার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা শহরের কোর্টপাড়ায় এসে পৌছায়। কিছুক্ষণ পর নিজ পৈত্রিক বাড়ি দামুড়হুদার কুড়ুলগাছিতে নেয়া হয়। সেখান থেকে নানা বাড়ি মেহেরপুরের জয়পুর গ্রামে নিয়ে গ্রামের কবরস্থানে শায়িত করা হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রমযান আলী বলেন, দুই বোনের মধ্যে মাহিয়া ছিল বড়। বাবার মৃত্যুর পর মা ও ফুফুদের সঙ্গে ঢাকাতে থাকতো। মরদেহ নানার বাড়িতে পৌছালে মুহুর্তেই নেমে আসে শোকের ছায়া। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জানাযার নামায শেষে জয়পুর কবরস্থানে শায়িত করা হয়। এ সময় জেলা, উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানাযার নামাযে অংশ নেন।