রাজশাহীতে আদালত চত্বরে এক নারীর সঙ্গে কাজির (নিকাহ রেজিস্ট্রার) মারামারির ঘটনা ঘটেছে। দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে নগরীর বোয়ালিয়া আমলি আদালতের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুই ভাই মোকাদ্দেম হোসেন শাওন ও মোস্তফা হোসেন ভিক্টর- দুইজনই কাজি। দুপুরে আদালত চত্বরে দুই ভাইয়ের সঙ্গে ওই নারীর কথাকাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে রেগে গিয়ে ওই নারী প্রথমে কাজি শাওনকে লাথি মারেন। এরপর শাওনও ওই নারীকে লাথি মারেন। এ সময় ওই নারী চেঁচামেচি করতে থাকেন। তাঁর চিৎকারে অনেক লোক জড়ো হয়।
তবে সবার সামনে প্রকাশ্যেই অশ্লীল ও অশ্রাব্য ভাষায় ওই নারীকে গালিগালাজ করেন শাওন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে দুইজনকে দুই দিকে সরিয়ে দেয়। পরে ওই নারী জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে মৌখিক অভিযোগও করেন।ওই নারী বলেন, ওই দুই কাজি প্রতারক চক্রের সদস্য।
তারা অনেক নারীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি আমার বিয়ে হয়। তবে স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এ ব্যাপারে আদালতে মামলা হয়েছে। আমি দেনমোহরের ৩৮ লাখ টাকা পাবো।
ওই নারীর অভিযোগ, দেনমোহরের ওই টাকার জন্য দুই কাজি মামলার বাদী হিসেবে তাঁকে আপোষ-মীমাংসা করার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। আপষ করে মোটা অংকের টাকা তাঁরা হাতিয়ে নিতে চান। এতে রাজি না হলে তাঁর সঙ্গে কথাকাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন দুই কাজি। এসময় শাওন তাঁকে লাথিও মারেন। এ ব্যাপারে তিনি আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
এ ব্যাাপারে কাজি মোস্তফা হোসেন ভিক্টর বলেন, ‘ওই মহিলাই প্রথমে আমার ভাইকে লাথি মারেন। তারপর আমার ভাই লাথি মেরেছে। তবে এটা ঠিক হয়নি।’ তবে কাজি মোকাদ্দেম হোসেন শাওনকে বলেন, আমি ওই নারীকে মারিনি। ওই নারীই আমাকে লাথি মেরেছে। এরপর কথাকাটাকাটি হয়েছে শুধু।’
জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুর রকিব সিদ্দিকী বলেন, ‘আদালত চত্বরে কোনো নারীকে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি আমার জানা নেই। ভুক্তভোগী নারী আমার কাছে অভিযোগ করলে ওই দুই কাজির বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।