মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লী মতির মোড় এলাকার একটি ডেকোরেটরের দোকান থেকে সুজন মিয়া (১৩) নামের এক কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ জুলাই) সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুজনের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকায় তার মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে।
নিহত সুজন সাটুরিয়ার দড়গ্রাম ইউনিয়নের বিলতালুক ছাপরাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিষু মিয়ার ছেলে।সুজনের বাবা বিষু মিয়া জানান, “দুই মাস আগে আমার ছেলে রাগ করে বাড়ি থেকে চলে যায়। পরে জানতে পারি সে তিল্লী মতির মোড় এলাকার সাকিব মিয়ার ডেকোরেটরের দোকানে কাজ করছে। আমি একাধিকবার তাকে নিতে এসেছিলাম, কিন্তু সে ফিরতে রাজি হয়নি। আজ সকালে খবর পাই, আমার ছেলে মারা গেছে। আমার ছেলের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি, তাকে হত্যা করা হয়েছে।”ডেকোরেটরের মালিক মো. সাকিব মিয়া বলেন, “সুজন তিন দিন আগে আমার দোকানে কাজে আসে। গতকাল একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পর সে বারবার পাতলা পায়খানা ও বমি করতে থাকে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে আমার মেয়ে জানায়, তার পিঠে ঘা হয়েছে। সুজন নিজেই জানায়, ভ্যান থেকে পড়ে গিয়েছে। পরে আবার চিকিৎসা করিয়ে তাকে বিশ্রাম নিতে দেওয়া হয়। আজ সকালে পাশের দোকানদার আমাকে খবর দেয়, সুজন মারা গেছে।”ঘটনাস্থলে উপস্থিত সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সুলতান হোসেন বলেন, “লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে।”এ বিষয়ে সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিনুল ইসলাম জানান, “লাশ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।