নরসিংদীর পলাশে শোডাউনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতাদের ওপর গুলি বর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে ঘোড়াশাল পৌর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার পলাশ বাসস্ট্যান্ড থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা উপজেলার প্রধান সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ শেষে পলাশ থানার সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে গড়ায়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠীর মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী ফজলুর কবির জুয়েল ও তার বাহিনী রবিবার সন্ধ্যায় শান্তিপূর্ণ ছাত্রদল সমাবেশে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি বর্ষণ করে তারা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করে।” বক্তারা এ হামলাকে ফ্যাসিস্ট সরকারের গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলেও উল্লেখ করেন।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা আরও বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে থেকে যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করেছেন, সেই সংগ্রামী ছাত্রদল নেতা ইসমাঈল হোসেন আজ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। তার বুকের ভিতর গুলি বিদ্ধ হয়েছে। এ ঘটনায় আরও আহত হয়েছেন ছাত্রদল নেতা রবিউল ও সিএনজি চালক সোহেলসহ অন্তত ১০ জন। এত বড় ঘটনায় জড়িত থাকার পরও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার না করা দুঃখজনক ও প্রশাসনের নির্লিপ্ততার বহিঃপ্রকাশ।”
নেতাকর্মীরা অবিলম্বে হামলার মূল হোতা জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুর কবির জুয়েল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর গ্রেপ্তার দাবি করেন। একই সঙ্গে ন্যায়বিচারের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ আলম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, পলাশ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট বাছেদ মিয়া, ছাত্রদল নেতা নাজমুল হোসেন সোহেল, মোস্তাফিজুর রহমান পাপন, আমানউল্লাহ আমান, আরিফুল ইসলাম আরিফ, ডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জামান, যুবদলের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনিরসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
রবিবার সন্ধ্যায় পলাশ উপজেলা ছাত্রদলের মিছিল ও সমাবেশে জুয়েল বাহিনী হামলা চালালে ছাত্রদল কর্মী ইসমাঈল ও সিএনজি চালক সোহেল গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় অন্তত দশজন আহত হন, যাদের মধ্যে ইসমাঈলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার পর রাতেই ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পলাশ থানায় ফজলুর কবির জুয়েলকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশ থানার ওসি মো. মনির হোসেন। তবে মামলার পর এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।