মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার কোলিয়া ইউনিয়নের পুটিয়াম পল্লী উন্নয়ন সমিতির আওতাধীন দুটি পুকুর উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও প্রশ্নবিদ্ধ কার্যক্রমের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কাজের গুণগত মান, ঠিকাদারি নিয়ম এবং আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতার অভাব প্রকল্পগুলিকে বিতর্কিত করে তুলেছে।
প্রকল্প অনুযায়ী, পুটিয়াম পুকুর-১ এর উন্নয়নকাজে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩০ লক্ষ টাকা, যা ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে সম্পন্ন হওয়ার কথা। প্রথমে ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব ছিল জাহিদ ট্রেডার্স-এর হাতে, কিন্তু পরবর্তীতে কোনো প্রকার টেন্ডার বা পুনঃচুক্তির ঘোষণা ছাড়াই কাজ হস্তান্তর করা হয় বিকে ট্রেডার্স নামে এক প্রতিষ্ঠানের কাছে।
নতুন ঠিকাদার বিকে ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী বিষ্ণু কুমার দাস হলেও, প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কাজের দক্ষতা ও অনুমোদনের বৈধতা নিয়ে। স্থানীয়দের দাবি, বদলির প্রক্রিয়ায় সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করা হয়েছে।
একই সময়ে চলমান পুকুর-২ উন্নয়ন প্রকল্পে (জমির পরিমাণ ২.৩ একর, ব্যয় ১২,২৩,০০০ টাকা) ঘাটলা নির্মাণসহ অন্যান্য কাঠামোগত কাজের ক্ষেত্রে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
এ প্রকল্পের কার্যাদেশ পেয়েছে মেসার্স রয়ে ট্রেডার্স, কিন্তু স্থানীয়রা বলছেন, ঘাটলার সিমেন্ট-বালু মিশ্রণের অনুপাত সঠিক নয় এবং মাটি খনন ও পাড় বাঁধাইয়ে যথাযথ তদারকি করা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর বাকির (সনেট) বলেন,> “আমি নিয়মিত প্রকল্প তদারকি করছি। অভিযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি গঠন করা যেতে পারে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে জাহিদ ট্রেডার্স ও বিকে ট্রেডার্স কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি।
স্থানীয় সুশীল সমাজ ও জনপ্রতিনিধিরা এই অনিয়ম তদন্তে একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ অপচয় হবে এবং ভবিষ্যতে সরকারি প্রকল্পগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে।