ঘ্রাণে চেনা, স্বাদে অতুলনীয়—দিনাজপুরের বিখ্যাত বেদানা লিচু এবার পেয়েছে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) ট্যাগ। এ অর্জন শুধু দিনাজপুরের মানুষের জন্য গর্বের বিষয় নয়, বরং দেশের কৃষিখাতে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আন্তর্জাতিক বাজারে লিচুর আলাদা পরিচয় তৈরি করলো এই স্বীকৃতি।
বর্তমানে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে—নবাবগঞ্জ, বিরামপুর, ফুলবাড়ী ও সদর উপজেলায় প্রায় ৫৪ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হচ্ছে। সম্ভাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছে ৪০০ থেকে ৩৬ হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত, যার বাজার মূল্য প্রায় ৭০০ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
এরইমধ্যে বাজারে এসেছে আগাম জাতের মাদ্রাজি লিচু, যা সুগন্ধে ভরিয়ে তুলেছে আশপাশের জনপদ। পাশাপাশি বেদানা, বোম্বাই, চায়না-২ ও চায়না-৩ জাতের লিচুও দেখা মিলছে বাজারে। জাতভেদে দামও ভিন্ন—সাধারণ জাতের লিচু প্রতি পিসে ২ থেকে ২.৫ টাকা, আর উন্নত জাত চায়না-৩ বিক্রি হচ্ছে ৬ থেকে ৭ টাকা দরে।
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে লিচুর বাজারে বেড়েছে ব্যস্ততা। কৃষক, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক—সবাই এখন ব্যস্ত এই লিচু ঘিরে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে দিনাজপুরে এক উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা দিয়েছে।
গত ৩০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে দিনাজপুরের বেদানা লিচু পেয়েছে জিআই ট্যাগ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ প্রচেষ্টায় এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনাজপুরের বিশেষ মাটি ও জলবায়ুই এই লিচুর স্বাদ-ঘ্রাণে ভিন্নতা আনে।
স্থানীয় লিচুচাষিদের মতে, এই স্বীকৃতি দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্ববাজারে দিনাজপুরের লিচুর কদর বাড়াবে। তাঁদের ভাষায়, “জিআই ট্যাগ আমাদের জন্য আশীর্বাদ। বিদেশে রপ্তানি হলে আমরা যেমন লাভবান হব, তেমনি দেশের সুনামও বৃদ্ধি পাবে।”