গত ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবুল হোসেন। তার লাশ পুলিশ আগুনে পুড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ১০ মাস পার হলেও তার পরিবার ন্যায়বিচার পায়নি। স্ত্রী লাকী আক্তার দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, পুলিশ অফিস, আদালত ঘুরছেন, কিন্তু কোনো ফল হয়নি।
আবুল হোসেনের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ফুলঘর গ্রামে। তার শ্বশুরবাড়ি সংলগ্ন গ্রামে থাকেন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।
লাকী আক্তার অসংখ্যবার আসিফ মাহমুদের বাড়িতে গেলেও তাকে দেখা পাননি। এমনকি উপদেষ্টার পরিবারের সদস্যরাও শুধু আশ্বাসই দিয়েছেন।
আবুল হোসেনের মৃত্যুর সত্যতা প্রমাণে সব ডকুমেন্ট আছে। মিডিয়া রিপোর্ট, ডিএনএ টেস্ট—সবই তার পক্ষে। তবুও নিষ্পত্তি হয়নি। লাকী আক্তার বলেন, “একটা স্বীকৃতির জন্য এত ঘুরলাম, কিন্তু কেউ সাহায্য করল না। আমার স্বামীর রক্তের মূল্য কি এতই কম?”
এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে সরকার ও মুগ্ধ ফাউন্ডেশনের ভূমিকা নিয়ে। শহীদ পরিবারগুলোর দুর্দশার মধ্যেও রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিয়ে শুধু বক্তৃতা দিচ্ছে, কিন্তু প্রকৃত সহায়তা দিচ্ছে না। লাকী আক্তারের মতো অসংখ্য পরিবার আজ মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব অবহেলিত। আইনগত সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। লাকী আক্তারের আকুল আবেদন, “আমার স্বামীর জন্য ন্যায়বিচার চাই। আমাদের আর হয়রানি না করে সাহায্য করুন।”
রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এখনো অপেক্ষা শহীদ পরিবারগুলোর ন্যায্য অধিকার আদায়ের।