এস.এম.সামজাত(বিশেষ প্রতিনিধি): চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এপ্রোন (বিমান পার্কিংয়ের জায়গা) এবং রানওয়েতে কুকুরের উৎপাত দিন দিন বাড়ছে। এতে অপারেশনাল কার্যক্রম এবং নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটার কথা উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে (চসিক) চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। তবে কুকুর নিধনে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিপাকে পড়েছে চসিক।
বিমানবন্দর কর্মকর্তারা জানান, করোনার পর থেকে বিমানবন্দর এলাকায় ধারাবাহিকভাবে কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কুকুর নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে রানওয়ে এবং বিমান পার্কিং এরিয়া কুকুরের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় অপারেশনাল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘এয়ারপোর্ট এরিয়া বিশেষ করে রানওয়েতে কুকুরের উৎপাত বেড়ে গেছে। এতে অপারেশনে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে আমরা কয়েক দফায় জানিয়েছি। কোনো সাড়া না পাওয়ায় সপ্তাহ খানেক আগেও আমরা আরেকটি চিঠি দিয়ে সমস্যাটি সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছি।
চসিককে কুকুর নিধনে ব্যবস্থা নিতে গত ২১ এপ্রিল একটি চিঠি পাঠান শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর।
চিঠিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি এপ্রোন এবং রানওয়ে সংলগ্ন এরিয়ায় কুকুরের উৎপাত আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিমানবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম ও নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটছে। কুকুরের বিষয়ে এয়ারলাইন্সের পাইলটরা একাধিকবার অভিযোগ দিয়েছেন। জরুরি ভিত্তিতে এ বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন।’
দাপ্তরিক চিঠিতে সংযুক্ত একটি নোটে বলা হয়েছে, ‘শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এপ্রোন এবং রানওয়ে সংলগ্ন এরিয়াতে কুকুরের উৎপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের পাইলটরা কন্ট্রোল টাওয়ারে একাধিকবার অভিযোগ দিয়েছেন। সুষ্ঠুভাবে অপারেশনাল কাজ সম্পন্ন করার জন্য জরুরিভিত্তিতে কুকুর নিধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
চিঠির জবাবে চসিক কী করছে জানতে চাইলে সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম সিভয়েস২৪’কে বলেন, ‘বিমানবন্দর থেকে কয়েকবার চিঠি পেয়েছি। পাশাপাশি আরও বেশ সংস্থাসহ অনেক পাড়া-মহল্লা থেকে অভিযোগ পেয়েছি। এর মধ্যে কেউ কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ জানালেও মৌখিকভাবে অনেকে জানিয়েছেন। কিন্তু কুকুর নিধনে হাইকোর্টের একটি নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমরা বিপাকে পড়েছি।’
কুকুরনিধনের বিকল্প কিছু চসিক ভাবছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেখি, আগামী সাধারণ সভায় আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা তুলবো। এর মধ্যে আমি ভেবেছি, নগরের সবগুলো কুকুরকে ভ্যাকসিন দিয়ে তাদের চিহ্নিত করার জন্য বেল্টের ব্যবস্থা করবো।
তবে এয়ারপোর্টের বিষয়টা ভিন্ন। ওখানকার কুকুরগুলোকে রি-লোকেড (স্থানান্তর) করতে হবে। দেখি, আগামী সাধারণ সভায় আমি গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো।’-যোগ করেন চসিক সিইও।