মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের নির্ধারিত সীমানা লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ফলে পদ্মা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে, যার প্রভাবে স্থানীয়দের ফসলি জমি ও বসতভিটা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জনবহুল এই জনপদ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ও দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
গত ১৭ আগস্ট ‘জুলাই যোদ্ধা, মানিকগঞ্জ জেলা শাখা’র পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবর এসংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, লেছড়াগঞ্জ, সুতালড়ী, বয়ড়া ও কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ইজারা চুক্তির শর্ত সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে ১৬টি শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে দিনরাত নির্বিচারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অপরিকল্পিত ও যত্রতত্র বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক হাইড্রোলজিক্যাল প্রবাহ ও গতিপথ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অস্বাভাবিক স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে তীরবর্তী অঞ্চলে ভাঙনের মাত্রা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েক দিনে লেছড়াগঞ্জ ও সুতালড়ী এলাকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আবাদি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে, ফলে চরাঞ্চলের বহু পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
লিখিত অভিযোগে অবিলম্বে ইজারাবহির্ভূত এলাকার বালু উত্তোলন চিরতরে বন্ধ করা, অবৈধ ড্রেজারসমূহ জব্দ করা, সংশ্লিষ্ট ইজারা চুক্তি বাতিল ঘোষণা করা এবং জনসম্পদের ক্ষতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জোর দাবি জানান অভিযোগকারীরা।
এদিকে, সুনির্দিষ্ট এই অভিযোগের বিষয়ে লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের ইজারাদার মো. বিল্লাল খান সীমানার বাইরে বালু উত্তোলনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও জনবসতি রক্ষায় খুব শীঘ্রই আবারও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং দোষীদের কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে।