পার্বত্য জেলা রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ১ নম্বর চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের বন বিভাগের বিট অফিস এলাকায় অবস্থিত দারুস সালাম নূরানী মাদ্রাসা স্থানীয় শিক্ষার্থীদের ইসলামিক শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সম্ভাবনাময় এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে পাশের পাহাড়ধসের কারণে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীকে কয়েকটি শিফটে পাঠদান করাচ্ছেন চারজন শিক্ষক। স্থানীয়দের মতে, সীমিত অবকাঠামো ও নানা সংকটের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলে মাদ্রাসাটির শিক্ষার পরিবেশ ও অবকাঠামোর আরও উন্নয়ন সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসা ভবনের পাশের পাহাড়ের কিছু অংশে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতে ধস নেমেছে। এতে মাদ্রাসা ভবনটি যেকোনো সময় পাহাড়ধস ও ভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
দারুস সালাম নূরানী মাদ্রাসার সুপার মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, “মাদ্রাসার পাশের পাহাড়ে ধস নামায় প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মাদ্রাসা ভবনকে সুরক্ষিত রাখতে গাইড ওয়াল নির্মাণসহ একটি টেকসই প্রকল্প গ্রহণ করা হলে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
স্থানীয় সমাজসেবক আবুল কামাল হোসেন বলেন, “এবারের বৃষ্টিতে মাদ্রাসার পাশের পাহাড়ের কিছু অংশ ধসে পড়েছে। বিষয়টি আমরা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে এনেছি। এখন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
স্থানীয় মেম্বার আবুল হাসেম জানান,
মাদ্রাসাটির সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে মাদ্রাসাটি পাহাড়ধসের ঝুঁকি থেকে অনেকটা নিরাপদ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মসজিদ কমিটির সভাপতি এম আর হোসাইন জহির বলেন, “মাদ্রাসাটির টেকসই উন্নয়ন এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকি এড়াতে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”
স্থানীয়দের দাবি, দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকার শিশু-কিশোরদের ইসলামিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা এই প্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধসের আশঙ্কা থাকায় গাইড ওয়াল নির্মাণ, পাহাড়ের ঢাল সুরক্ষা এবং মাদ্রাসা ভবনের প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে দারুস সালাম নূরানী মাদ্রাসার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।