1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
  4. mstkfofa@gmail.com : Nx fhqt8p : Nx fhqt8p
  5. wpsvc_fkmdmu@gmail.com : wpsvc_fkmdmu :
  6. xtw18387+1aaa@outlook.com : xtw183871aaa :
বন খেকো এসিএফ আবরারুর? বদলি প্রজ্ঞাপন পরিবর্তন ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
চকরিয়া পাঁচ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপন ও বৃক্ষমেলা ও উদ্বোধন দিনাজপুরকে হারিয়ে কক্সবাজারের জয়, শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক সাংবাদিক কন্যা সোহানা কবির ভেড়ামারা মহিলা সরকারি কলেজ এ নতুন অধ্যক্ষ যোগদান উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান স্বাধীনতার ৫৩বছর পর দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার আলোঃ স্বেচ্ছাশ্রমে চলতে পাঠদান,জাতীয়করণের দাবি স্থানীয়দের ফুলে সাজানো গাড়িতে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হলো অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে বিরলে অপরাধ দমনে পুলিশের অভাবনীয় সাফল্য: ধরাশায়ী ঘাতকরা, মাদক নিয়ন্ত্রণে ‘জিরো টলারেন্স’ হাটহাজারীতে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সুধী সমাবেশ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গঠনে খুলনায় মিডিয়া অংশীজনদের সংলাপ ছাতকে জিআইএস-ভিত্তিক গ্রামীণ সড়ক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে কর্মশালা

বন খেকো এসিএফ আবরারুর? বদলি প্রজ্ঞাপন পরিবর্তন ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

reporter নুরুল ইসলাম সুমন, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম
calendar প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের নারায়ণহাট রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে বনভূমি দখল, কাঠ পাচার, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ; তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের নারায়ণহাট রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) খান মোঃ আবরারুর রহমানের বিরুদ্ধে সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখল, পাহাড় ও বন উজাড়, অবৈধ কাঠ পাচার, সরকারি প্রকল্পের অর্থ অনিয়ম এবং প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, বন অধিদপ্তরের প্রশাসনিক নিয়ম-নীতি ও বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠার মতো ঘটনা ঘটেছে তাঁর ক্ষেত্রে। সম্প্রতি তাঁর বদলি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের অধিকাংশের স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনো হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা ও পরিবেশসচেতন মহল।

সরকারি সূত্রে খান মোঃ আবরারুর রহমানের বন বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় পাওয়া যায়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও তাঁর নামে ২০২৬ সালের প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে।

বদলি প্রজ্ঞাপন পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগকারীদের দাবি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের গত ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখের স্মারক নং ২২.০০.০০০০.০৬৮.১৯.০০২.২৪ (খণ্ড-১)-২৪৮ প্রজ্ঞাপনে খান মোঃ আবরারুর রহমানকে জনস্বার্থে বগুড়া সামাজিক বন বিভাগে বদলি করা হয়।

কিন্তু মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ২২.০০.০০০০.০৬৮.১৯.০০২.২৪ (খণ্ড-১)-২৪৯ নম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তাঁকে খাগড়াছড়ি বন বিভাগে পদায়নের বিষয়টি সামনে আসে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করছেন।

এই বদলি পরিবর্তনের পেছনে কোনো প্রশাসনিক কারণ ছিল কি না, অথবা কারও প্রভাব বা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি উঠেছে।

নারায়ণহাট রেঞ্জে ‘সিন্ডিকেটের’ অভিযোগ

অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, নারায়ণহাট রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে আবরারুর রহমানের সঙ্গে রেঞ্জ সহযোগী ও ডেপুটি রেঞ্জার এস এম আনিচুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণহাট সদর বিট, বালুখালী বিট, দাঁতমারা বিট ও ধুরং বিটের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিভিন্ন অংশে বনভূমি দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং গাছ কাটার ক্ষেত্রে একটি চক্রকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

মাঠপর্যায়ের কয়েকজন বনকর্মীর বরাত দিয়ে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, নিয়মিত মাসোহারা ও এককালীন অর্থের বিনিময়ে বনভূমি দখল এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত ও প্রামাণ্য নথি প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

‘সুফল প্রকল্পের’ অর্থ নিয়েও অভিযোগ

নারায়ণহাট রেঞ্জে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাস্তবায়িত সুফল প্রকল্পের আওতায় বাগান সৃজন, চারা রোপণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও পাহারাদারদের জন্য বরাদ্দ অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় ৪০০ হেক্টর বাগানের বিভিন্ন কাজের জন্য বরাদ্দ অর্থের একটি বড় অংশ যথাযথভাবে ব্যয় না করে কাগজে-কলমে কাজ দেখানো হয়েছে।

বিভিন্ন বিট কর্মকর্তার অভিযোগের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, বরাদ্দের অর্থের একটি অংশ বাস্তবে কাজে ব্যয় করে অবশিষ্ট অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে প্রকল্পের হিসাব, বিল-ভাউচার, কাজের পরিমাপ ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা যাচাই করে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কাঠ পাচার নিয়েও গুরুতর অভিযোগ

আবরারুর রহমানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে মূল্যবান কাঠ পাচার।

অভিযোগকারীদের দাবি, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির কাগজপত্র ব্যবহার করে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছকে বৈধ জোত কাঠ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি প্রায় ৮০ হাজার ঘনফুট কাঠের ভুয়া জোত পারমিট তৈরির অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব কাগজপত্র ও অবৈধ পরিবহন পাশ ব্যবহার করে সেগুন, গামার, গর্জন, চাপালিশসহ বিভিন্ন মূল্যবান গাছ কেটে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হয়েছে।

আরও অভিযোগ করা হয়েছে, নারায়ণহাট রেঞ্জের বিভিন্ন বিট থেকে কাঠ সংগ্রহ করে রাতের বেলায় নারায়ণহাট ও বালুখালী হয়ে মীরসরাই রেঞ্জের গোবানিয়া বিট অতিক্রম করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তোলা হতো।

স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, প্রতিদিন রাতে একাধিক কাঠ ও জ্বালানি বোঝাই গাড়ি চলাচল করত। এসব গাড়ি পারাপারে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

তবে কাঠ পাচারের পরিমাণ, পরিবহন পাশের বৈধতা এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগগুলো তদন্ত করে নথিপত্রের ভিত্তিতে নিশ্চিত করা জরুরি।

ফল বাগানের টেন্ডার নিয়েও প্রশ্ন

সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি বাণিজ্যিক ফল বাগানের আওতায় দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, টেন্ডারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি বাগান সৃজনের সুযোগকে ব্যবহার করে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সংরক্ষিত বনভূমির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কোথাও কোথাও বনভূমি দখল ও প্রাকৃতিক বন ধ্বংসের পথ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরিবেশবাদীদের মতে, সংরক্ষিত প্রাকৃতিক বনকে বাণিজ্যিক বাগানে রূপান্তরের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব, আইনগত বৈধতা এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া কঠোরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ডিএফওর তদন্তের আশ্বাস, দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই

অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন এর আগে গণমাধ্যমকে দ্রুত তদন্ত টিম গঠন করে আবরারুর রহমানের নারায়ণহাট রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালীন কর্মকাণ্ড এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অবস্থা তদন্তের কথা জানিয়েছিলেন বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেছেন।

তবে অভিযোগ প্রকাশের পরও আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি বা দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দো-এর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা খান মোঃ আবরারুর রহমানের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

স্থানীয়দের ক্ষোভ

স্থানীয়রা বলেন, বন বিভাগের সংরক্ষিত এলাকায় যদি বনভূমি দখল, পাহাড় কাটা ও কাঠ পাচারের মতো ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

তারা বলেন, বন রক্ষার দায়িত্ব যাদের ওপর, তাদের বিরুদ্ধেই যদি বন ধ্বংসে সহযোগিতার অভিযোগ ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হয়। তাই অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, “কেউ অপরাধী হলে তিনি যত বড় কর্মকর্তা বা প্রভাবশালীই হোন, তদন্তের আওতায় আনতে হবে। আর অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া দরকার।”

তাদের দাবি, নারায়ণহাট রেঞ্জের প্রতিটি বিটের বনভূমি, গাছ কাটার হিসাব, জোত পারমিট, ট্রানজিট পাস, টেন্ডার নথি, প্রকল্পের বিল-ভাউচার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বকালীন কর্মকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ অডিট করা হোক।

দুদকসহ উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি

পরিবেশবাদী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বন অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।

তাদের মতে, তদন্তে যদি বনভূমি দখল, কাঠ পাচার, সরকারি অর্থের অনিয়ম কিংবা অবৈধ অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে সম্পদের উৎস অনুসন্ধানেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় ও পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা, অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্ত না করলে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের পর খাগড়াছড়ির মতো সংবেদনশীল বনাঞ্চলেও একই ধরনের অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com