আইন ও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবাধে চলাচল করছে ‘স্বাধীনতা পরিবহন’ নামের রুট পারমিটবিহীন অবৈধ মিনিবাস। নবীনগর থেকে মানিকগঞ্জ-আরিচা রুটে চলাচলকারী এসব গাড়ির বৈধ কোনো কাগজপত্র না থাকলেও প্রশাসনের নাকের ডগায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সেগুলো। এই অবৈধ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কে গাড়ি নামার পর থেকেই নির্দিষ্ট কয়েকটি পয়েন্টে চাঁদা দিতে বাধ্য করা হয় চালকদের। এর মধ্যে তাহেরের নেতৃত্বে নবীনগর এলাকায় প্রতিটি গাড়ি থেকে ৬০ টাকা, ইসলামপুরে ২০ টাকা, ঢুলিভিটায় ২০ টাকা এবং বারোবাড়িয়াতে ২০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে এই চাঁদার টাকা পরিশোধ করার পরই কেবল গাড়িগুলো মহাসড়কে চলাচল করতে পারে।
বিআরটিএ-র নিয়ম অনুযায়ী রুট পারমিট ছাড়া কোনো যানবাহন সড়কে চলার কথা নয়। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই এই মিনিবাসগুলো চলাচল করছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব গাড়িচালকদের বেশিরভাগেরই কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে লাইসেন্সহীন চালক এবং রুট পারমিটবিহীন যানের অবাধ চলাচল সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বাধীনতা পরিবহনের বেশ কিছু গাড়ি দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ কাগজপত্র ছাড়াই এই রুটে চলছে। সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করেই এই সিন্ডিকেট তাদের অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় একদিকে যেমন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে সড়ক নিরাপত্তা নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চোখের সামনে এমন অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
অবৈধভাবে পরিচালিত এসব যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল। একই সঙ্গে গাড়িগুলোর রুট পারমিট, ফিটনেস ও লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে অবিলম্বে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।