মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর মুন্সিবাজার ইউনিয়নের ইউনিয়ন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়টি থেকে এ বছর ৩৪ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৩ জন।
গত ১০ আগস্ট এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ ফলাফল জানাজানি হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান হচ্ছে না। পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষকের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি তাদের।
স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দারা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৩ জন উত্তীর্ণ হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, পাঠদানের মান, শিক্ষক উপস্থিতি ও বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তাদের দাবি, শুধু ফলাফল প্রকাশের পর আলোচনা বা সমালোচনা না করে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের সামগ্রিক চিত্র তদন্ত করা দরকার। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করে আগামী বছর ভালো ফলাফল অর্জনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
স্থানীয়রা আরও বলেন, একটি বিদ্যালয় শুধু পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের জায়গা নয়; এখান থেকেই একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে। তাই ইউনিয়ন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ফল বিপর্যয়ের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মানিক কান্তি পাল বলেন, “অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় আমরা কিছুটা অস্বস্তিতে আছি। শিক্ষার্থীরা অভিভাবকদের কাছে গিয়ে বলে, বিদ্যালয়ে পড়ালেখা হয় না। এতে অভিভাবকরাও বিষয়টি ভুলভাবে বুঝছেন। আগামীতে ভালো ফলাফলের জন্য আমরা সে অনুযায়ী উদ্যোগ নিচ্ছি।”
কমলগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুন্নাহার পারভিন বলেন, “এসএসসির ফলাফল বিপর্যয় দেখে প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ের কোন কোন জায়গায় ঘাটতি রয়েছে তা চিহ্নিত করতে বলেছি। পাশাপাশি অভিভাবকদের নিয়ে জরুরি সভা করার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
সংশ্লিষ্টদের আশা, দ্রুত বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলে আগামীতে এ বিদ্যালয়ের ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।