অভিনব কৌশলে মোটরসাইকেলে মাদক পাচার, লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) বিশেষ অভিযানে জব্দ গাঁজা ও ইস্কাপ সিরাপ।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বনচৌকি এবং গোড়কমন্ডল বিওপির টহলদল পৃথক ০২টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ এবং গাঁজাসহ মোটরসাইকেল জব্দ করেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারীরা সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান করবে। উক্ত তথ্যানুযায়ী, ০৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখ সকাল ০৬:০০ ঘটিকায় বনচৌকি বিওপির আওতাধীন পূর্ব আমঝোল (থানা-হাতিবান্ধা, জেলা-লালমনিরহাট) নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে বিজিবি টহল দলের সদস্যরা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আসতে দেখে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে উক্ত চোরাকারবারীরা বহনকৃত মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশী করে ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ ৩৫৫ বোতল জব্দ করতে সক্ষম হয়।
এছাড়াও, ০৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাত ০২:৫০ মিনিটে গোড়কমন্ডল বিওপির আওতাধীন মধ্যটারী (থানা- ফুলবাড়ি, জেলা-কুড়িগ্রাম) নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযান চলাকালে টহলদলের সদস্যরা সন্দেহজনক ব্যক্তিকে মোটর সাইকেলযোগে আসতে দেখে থামার সংকেত দিলে উক্ত ব্যক্তি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে মোটরসাইকেলটি তল্লাশি করে এর তেলের ট্যাংক ও সিটের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ০৬ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে একটি পালসার (১৫০ সিসি) মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ইস্কাপ সিরাপ ৩৫৫ বোতল, যার সিজার মূল্য ১,৪২,০০০/-, ভারতীয় গাঁজা ০৬ কেজি, যার সিজার মূল্য ২১,০০০/- এবং পালসার (১৫০ সিসি) মোটরসাইকেল ০১টি, যার সিজার মূল্য ১,৫০,০০০/- টাকাসহ সর্বমোট সিজার মূল্য ৩,১৩,০০০/- (তিন লক্ষ তেরো হাজার) টাকা। এছাড়াও চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার “লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি” বলেন,“দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চোরাচালান ও মাদকপাচার এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন এর প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। এছাড়াও, দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা করেছি এবং ভবিষ্যতেও এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।