স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে পদোন্নতি, বদলি ও পদায়ন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সম্প্রতি ২২৪ জন সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী এবং ১৩০ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদোন্নতি হয়েছে। যাহা বিগত সময়ের পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিরল দৃষ্টান্ত।
একই সাথে অধিক সংখ্যক পদোন্নতি কারণে পদায়নের ক্ষেত্রে বেশ জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরিশাল জেলার বরিশাল সদর উপজেলায় উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে মোহাম্মদ সাদিকুর রহমানের পদায়নকে কেন্দ্র করে সিনিয়রদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিগত ১৪-৭-২০২৬ খ্রি: স্মারক নং- ৭২২৪/১(২০) এক অফিস আদেশে মোহাম্মদ সাদিকুর রহমানকে সহকারি প্রকৌশলী বরিশাল সদর উপজেলা, একই সাথে আর্থিক ক্ষমতা সহ উপজেলা প্রকৌশলী (অ: দা:) ষষ্ঠ গ্রেড ভুক্ত উপজেলা প্রকৌশলী প্রদান না করা পর্যন্ত স্ট্যান্ড রিলিজ সহ দায়িত্ব প্রদান করা হলো। কিন্তু তার বদলির আদেশের পূর্বে অন্য একজন সিনিয়র প্রকৌশলীকে শূন্য পদে সদর উপজেলার উপজেলা প্রকৌশলী (চ: দা:) প্রদান করে ছিলেন।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান গোপালগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।
সহকারি প্রকৌশলী হিসাবে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেন।
তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীর ছত্রচ্ছায়া থেকে উপজেলাকে এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে চরম বিতর্ক সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় উপজেলা প্রকৌশলী দায়িত্ব পালন করেন।
কিন্তু দায়িত্বে চরম অবহেলা,কর্মে অমনোযোগী,কর্তৃপক্ষের আদেশ-নির্দেশ পরিপালনের চরম অনিয়া ও অলসতার কারণে কলাপাড়া উপজেলা থেকে দুমকি উপজেলায় বদলি করা হয়।
বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ ফরিদা সুলতানা এক সময় দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
তৎকালীন সময় দুমকি উপজেলার উপজেলা প্রকৌশলী দায়িত্বরত মোহাম্মদ সাদিকুর রহমানের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে।
উত্তরবঙ্গের বাসিন্দা মোছাঃ ফরিদা সুলতানা বরিশাল সদর উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে কয়েক মাস পূর্বে যোগদান করেন।
পূর্ব পরিচিত ও ঘনিষ্ঠতার সুবাদে মোঃ সাদিকুর রহমানকে বরিশাল সদর উপজেলার উপজেলা প্রকৌশলী (চ: দা:) দিয়ে সিন্ডিকেট বাসনা পূর্ণ করেন।
সূত্র মতে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলী মধ্যে সখ্যতার বনি বনা থাকলে উপজেলার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা নেয়া সহজ হয় বলে অনেকে জানিয়েছে।
এপেক্ষিতে বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ প্রাপ্ত প্রশাসন ক্যাডার ৩৭তম ব্যাচের মোছাঃ ফরিদা সুলতানা স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রশাসন ক্যাডারের ৩৭তম ব্যাচের একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে এই বদলির আদেশটি জারি করান।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, গোপালগঞ্জের মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান নামে কোন প্রকৌশলীকে তারা চিনেন না, এ ধরনের বদলিজনিত কোন কর্মকান্ডের সাথে স্থানীয় সরকার বিভাগের কোন সম্পৃক্ততা নেই।
অন্যদিকে বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ ফরিদা সুলতানা গণমাধ্যমকে বলেন,আমি কোন তদবির করি নাই, এ বিষয়ে কাউকে ফোনও বলিনি। কেউ হয়তো ভুল তথ্য দিয়েছে, তিনি শুধু সরকারের পক্ষে নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সেখানে সমন্বয়ের কাজ করছেন, কারো পক্ষে এভাবে ফোন করা বা তদবির করা আইনে কোন সুযোগ নেই।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সূত্র মতে, নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা বিভিন্ন কর্মকর্তাকে টেলিফোনে মোহাম্মদ সাদিকুর রহমানকে সদর উপজেলায় উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ণের জন্য জোরালো তদবির করেন।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি বলেছেন বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ ফরিদা সুলতানা ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থে মোহাম্মদ সাদিকুর রহমানকে তদবির করে বরিশালম সদর উপজেলার উপজেলা প্রকৌশলীর দায়িত্বে পদায়ন করেন।