যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বাঘা উপজেলায় জুলাই আন্দোলনের বীর যোদ্ধা রয়েছেন ৪ জন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের বীর যোদ্ধা জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলনের সময় সংঘটিত সংঘর্ষ এবং গুলিবিদ্ধ হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করেন।
বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের বীর যোদ্ধাদের অবদান জাতি চিরকাল কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল নজিরবিহীন। তারা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ব্যক্তিদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তারা বলেন, জুলাইয়ের চেতনা নতুন বাংলাদেশের পথচলায় সবসময় প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান জনি, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান আসাদ, উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু বাশির, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তহুরা হক, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা, বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হকসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাঘা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম মলিন, বাঘা পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম তফি, বাঘা উপজেলা জামায়াতের আমির আবদুল আল মামুনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন আবুল কালাম। আলোচনা সভা শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত, আহতদের সুস্থতা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।