1. [email protected] : Ghoshana Desk :
  2. [email protected] : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. [email protected] : Masud Khan : Masud Khan
বিরলে এক আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুত্বর অভিযোগ উঠেছে - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
রিফাত হত্যার রায়: ৫ জনের ফাঁসি, ৫ জনের ১০ বছর কারাদণ্ড, ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড সারিয়াকান্দির নারচী ইউনিয়নে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান প্রদান পূনরুদ্ধার হলো বিরলের ধর্মপুর শালবনের আরো ৬ একর জমি বকশীগঞ্জে ডিবির অভিযানে ৯০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার টাঙ্গাইলে আলোচিত কলেজ ছাত্র নাইম শেখ হত্যা মামলার আসামি সোলায়মান শিকদার গ্রেফতার বেফাঁস মন্তব্যের জেরে খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারকে প্রত্যাহার বিরলে এক আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুত্বর অভিযোগ উঠেছে বিবির পুকুর পাড়ে পথশিশু ও দুস্থদের মুখে হাসি ফোটালো ‘পরানের বরিশাল’ ফল সমিতির নির্বাচনে নবনির্বাচিত কমিটির শপথ গ্রহণ ও ফুলের শুভেচ্ছা প্রতিমন্ত্রী সংবাদ প্রকাশের জেরে গ্রেপ্তার সাংবাদিকের জামিন

বিরলে এক আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুত্বর অভিযোগ উঠেছে

reporter মোঃ লুৎফর রহমান,বিরল (দিনাজপুর) 
calendar প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ

যেই সন্তানের পড়া-লেখা এবং সরকারি চাকুরী নামের সোনার হরিণটি নিয়ে দিতে পরিবার নিঃস্ব। সেই সন্তানই এখন ওই নিঃস্ব পরিবারের সদস্যদের অবজ্ঞা এবং বাবা-মা ও স্ত্রী-কে পর করে দিয়ে স্বপ্নের রঙিন ঘ্ুঁড়ি উড়াচ্ছে। এমনই অভিযোগ উঠেছে দিনাজপুরের বিরলে এক আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে।
উপজেলার ৬নং ভান্ডারা ইউপি’র বৈরাগীপাড়া গ্রামের জয়নুল হক ও মর্জিনা বেগম দম্পতির ছেলে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য মাইফুর আলম মাইম। সে বর্তমানে মানিকগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৩৬বিএন)-এ কর্মরত আছে। তার ব্যাক্তিগত পরিচিতি নম্বর-১৯২৪৫৯৪।

এমন অভিযোগ উঠেছে, মাইফুর আলম মাইম সরকারি বিধি তোয়াক্কা না করে চাকুরী হবার আগেই মোটা অংকের যৌতুক নিয়ে পাশের বালান্দোর গ্রামের হোসেন আলীর মেয়ে হুছনা বানু (১৯) কে বিয়ে করে। এর পর চাকুরী হবার পর কাউকে না জানিয়ে আরেক নারীকে বিয়ে করে সে। সম্প্রতি দিনাজপুর শহরের ওই নারী (২য় স্ত্রী)-এর সাথে বিভিন্ন ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টিকটক আকারে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয়, ঘটনা জানতে গিয়ে তার বাবাকেও লাঞ্চিত করতে ছাড়েনি মাইম। ফলে পুরো পরিবারের সাথে এখন এখন সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন তার।

এদিকে গুরুত্বর অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে বাবা জয়নুল হক ও স্ত্রী হুছনা বানু পৃথক পৃথক ভাবে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহপরিচালক, সদরদপ্তর, খিলগাঁও, ঢাকা-১২১৯, বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

মাইফুর আলম মাইম এর বাবা জয়নুল হক জানান, দুই পারিবারের সম্মতিতে আমার ছেলে মাইফুর আলম মাইম এর সাথে পাশর্^বর্ত্তী বালান্দোর গ্রামের হোসেন আলীর মেয়ে হুছনা বানুর সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছুদিন তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোভাবেই চলছিল। এরপর এর সে চাকুরীর ট্রেনিং এ যায়। ট্রেনিং করে বাড়িতে ছুটিতে আসে এবং ছুটি শেষ করে চলে যায়। মোবাইল ফোনে টিকটিক দেখে তার কাছে জানতে চাইলে সে জানায়. সে নাকি দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। এব্যপারে সে আমাদের কিছুই জানায়নি এবং তার বড় স্ত্রী হুছনা বানুর কোন সম্মতি নেইনি। মাইম আমার বৌমা হুছনা বানুর কোন প্রকার ভরণ পোষণ ও খোরপোষ দেয়না। অথচ মাইমের চাকুরী হবার সময় হুছনা বানুর বাবার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে এবং আমার অন্যেও কাছে ধার করা ১০ লাখ মোট ২০ লাখ টাকা মাইম কে দিয়েছি। আমি এই বিষয় গুলো বলতে গেলে মাইম আমাকে দিনাজপুর শহরে গুন্ডা-পান্ডা দিয়ে দারুণভাবে লাঞ্চিত করেছে এবং আমি বাবা হবার পরেও সে এবং তার সঙ্গীরা আমার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ নিয়ে তারপর আমাকে ছেড়ে দিয়েছে। বিষয়টি এলাকার সবাই জানে। মাইমের কর্মকান্ডে আমি বাবা হিসাবে অতিষ্ঠ এবং লজ্জিত। আমি এ ব্যপারে ব্যবস্থা চেয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহপরিচালক, সদরদপ্তর, খিলগাঁও, ঢাকা-১২১৯, বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছি।

মাইফুর আলম মাইম এর মা মর্জিনা বেগম জানান, মাইম আমাদের ফোন ধরেনা। বাড়িতে আসেনা এবং আমাদের কারো সাথে কোন কথা বলেনা। সে এমন পরিবর্তন হবে আমি কোনদিন ভাবিনি। এই বলে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

মাইফুর আলম মাইম এর স্ত্রী হুছনা বানু জানান, দুই পরিবারের সম্মতিক্রমে গত ১৭-৭-২০২৫ ইং তারিখে মাইফুর আলম মাইম এর সাথে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক আমার বিয়ে হয়। আমাদের দাম্পত্য জীবন কিছুদিন ভালোভাবেই চলছিল। এরপর সে আমাকে বিভিন্ন অত্যাচার ও নির্যাতন করতে শুরু করে এবং ধিরে ধিরে সে আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। সে প্রায় ৩ মাস আগে ছুটিতে এসে কৌশলে আমার ফোনে থাকা তার ও আমার যাবতীয় ডুকুমেন্ট ডিলিট করে দিয়ে চলে গেছে। সে নাকি (মাইম) আমার অনুমতি ছাড়া কোন এক টিকটকার নারীকে বিয়ে করেছে। বর্তমানে সে আমার কোন খোঁজ খবর নেয় না এবং প্রকার ভরণ পোষণ ও খোরপোষ দেয়না। এব্যপারে আমি ব্যবস্থা চেয়ে গত ১২-৪-২০২৬ ইং তারিখে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহপরিচালক, সদরদপ্তর, খিলগাঁও, ঢাকা-১২১৯, বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছি। তদন্ত এসেছিল। তবে এখন পর্যন্ত কোন প্রতিকার পাইনি। আমি এই ব্যপারে মহাপরিচালক মহোদয়ের নিকট দ্রুত বিচার চাই।

মাইমের দাদা সামশুল হক ও দাদি জরিনা বেগম জানান, মাই এখন পরিবর্তন হয়ে গেছে। সে তার স্ত্রী হুসনা বানুকে অস্বীকার করছে। হুসনা বানু সাথে তার বিয়ে হয়েছে এবং হুসনা বানু এখানে ঘর সংসার করেছে। এটা এলাকার সবাই জানে। সে এখন বাড়িতে আসেনা এবং কারো কোন খোঁজ খবর নেয়না। চাচা জাহিদুল ইসলামও একই কথা জানান।

এলাকার ইমাম মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, জয়নুল হকের ছেলে মাইফুর আলম মাইম এবং হোসেন আলীর মেয়ে হুসনা বানুর বিয়েটা ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক আমি পড়িয়েছি। কিন্তু সে এখন বিয়েটাকে অস্বীকার করছে।

বৈরাগী পাড়া গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, মাইমের বিয়ের সময় মাইমের বাবা আমাকে দাওাত দিয়ে ছিল। আমিসহ অনেকে বিয়ে বাড়িতে গিয়ে ছিলাম। আমাদের সাক্ষাতেই মাইম ও হুসনা বানুর আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ে হয়েছে। বিয়ের উপহার হিসাবে হুসনা বানুর বাবা জামাইকে ১০ লাখ টাকাও দিয়েছে। আগে তো ছেলেটা ভালই ছিল। এখন শুনছি সে নাকি অন্য একটা মেয়েকে বিয়ে করেছে।

বিয়ের স্বাক্ষী (উকিল) একই এলাকার বেলাল হোসেন জানান, আমরা ১৫ লাখ টাকা দেন মোহরে মাইফুর আলম মাইমের সাথে হুসনা বানুর বিয়ে দিয়েছি।

এব্যপারে মাইফুর আলম মাইমের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে সে জানায়, আমি হুসনা বানু (১ম স্ত্রী) এর সাথে আমার বিয়ে হয়নাই, বিয়ের চুক্তি হয়েছিল। আমার বাবাকে গুন্ডা দিয়ে মারিনি। আমার বাবা আমাকেসহ আমার স্ত্রী ( ২য় স্ত্রী) কে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। পরে দিনাজপুর বালুয়া ডাঙ্গায় লোকজন আমার বাবাকে মারপিট করেছে। তবে এক পর্যায় সে বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলে, এখন সমস্যা হয়েছে, প্রয়োজনে দুই বউ নিয়ে থাকবো। দুই জনেই থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com