উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, কার্তুজ ও মাদকসহ এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী মিলাদ হোসেন বাবলু ওরফে ‘ছেনী বাবলু’ (৩৫) ও তার প্রধান সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ এর নিদের্শে এএসআই(নিরস্ত্র) আপেল মাহমুদ এর নেতৃত্বে একটি পুলিশের চৌকস দল সেনি বাবলুর একটি আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান কালে সেনি বাবলু এবং ছেনী বাবলুর সহযোগী মো. জুয়েল রানা (৩৬) পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত শীর্ষ সন্ত্রাসী বাবলু উপজেলার শফি মেম্বারের ছেলে এবং জুয়েল রানা মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।
তাহের বাজারে গভীর রাতে এএসআই আপেল মাহমুদের হানা: পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এএসআই আপেল মাহমুদের নেতৃত্বে এই দুর্ধর্ষ শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তারের পর তাদের থানায় নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার তাহের বাজার এলাকায় গভীর রাতে একটি বিশেষ টিম নিয়ে চিরুনি অভিযান চালানো হয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ৩টি দেশীয় এলজি (লাইট গান), ৪টি কার্তুজ, ১টি ছেনি, ১টি চাপাতি, ৩১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ১১ হাজার ২২০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
সন্ত্রাসের আরেক নাম ‘ছেনী বাবলু’: স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া মিলাদ হোসেন বাবলু দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘ছেনী বাবলু’ নামে একটি আতঙ্কের নাম ছিলেন। তার বিরুদ্ধে সন্দ্বীপ থানাসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অন্তত ২০টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
একের পর এক শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, স্বস্তিতে সন্দ্বীপবাসী: এদিকে, সন্দ্বীপে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সাম্প্রতিক তৎপরতা সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। এর আগে গত সপ্তাহেও বাউরিয়া ইউনিয়নের শীর্ষ সন্ত্রাসী মাহফুজুর রহমান রিমনকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় সন্দ্বীপ থানা পুলিশ। একের পর এক শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেকেই পুলিশের এই সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে উপজেলার সর্বত্র এমন অভিযান জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স বা শূন্য সহনশীলতা নীতি। সন্দ্বীপে যারা এখনো সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারের সাথে জড়িত আছে বা তাদের আশ্রয় দিচ্ছে, তাদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধী যেই হোক, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
— সুজন হাওলাদার, অফিসার ইনচার্জ (ওসি), সন্দ্বীপ থানা।
জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় বিশেষ অভিযান: চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলা সুপারের নির্দেশনায় জেলাজুড়ে পরিচালিত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে অদ্যাবধি জেলার ১৭টি থানা এলাকায় মোট ১৩টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, ৯টি মামলা রুজু এবং ১৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে এ পর্যন্ত জেলা জুড়ে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৯২ কেজি গাঁজাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এ সংক্রান্তে বিভিন্ন থানায় ১৫২টি মামলা রুজু করে মোট ১৯৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।