নওগাঁয় বিবিসি ইটভাটার একটি ট্রাক্টরের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী রিমন হোসেন (৩০) নামে স্কুল শিক্ষক নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধের পাশাপাশি ৪ টি ট্রাক্টর ও ১ টি ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়।
পরে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের কাদিমপুর নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রিমন হোসেন সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর গ্রামের শাহীন হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে শিক্ষক রিমন হোসেন প্রাইভেট পড়ানোর উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি থেকে আড়চা গ্রামে যাচ্ছিলেন। এ সময় কাদিমপুর নামক স্থানে বিপরীত দিক থেকে আসা শহীদের বিবিসি ইটভাটার মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক্টর তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা দায়ী চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং অবৈধ ও নিয়ন্ত্রণহীন ইটভাটার ট্রাক্টর চলাচল বন্ধের দাবি জানান। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ৪টি ট্রাক্টরে ও ১ ভেকু মেশিনে অগ্নিসংযোগ করে এবং কিছু সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ করে রাখে, ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এ ঘটনার খবর পেয়ে,নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন বলেন- ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নওগাঁ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মুশফিকুর রহমান বলেন- ট্রাক্টরের চাপায় শিক্ষক রিমন হোসেন মারা যান। ঘটনার পর ট্রাক্টরটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক রয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে লাশ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে শিক্ষক নিহতের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা গভীর শোক প্রকাশ করে দ্রুত বিচার ও ইটভাটা বন্ধ সহ সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।