আবু নাঈম,বোয়ালখালী প্রতিনিধি: রাতে পড়াশোনা করে বইগুলো গুছিয়ে রেখেছিল হাবীবুর রহমান(৯)। সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য গায়ে পোশাক পরিধান করছে । কিন্তু হঠাৎ চারিদিকে চিৎকার আগুন আগুন । দ্রুত মায়ের হাত ধরে বৃদ্ধা নানিকে নিয়ে ঘর থেকে বের হতে হয় শিশু হাবীবকে। চোখের সামনে পুড়ে যায় সবকিছু।
মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব আমুচিয়া নতুন বাজার বক্কর চেয়ারম্যানের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে এতে ২৫টি কাঁচা ঘর পুড়ে গেছে।সেখানে হাবীবুর রহমানদের থাকা নানীর ঘরও ছিল।
আগুন নিভে গেলে দুপুরে হাবীবুর রহমান পোড়া স্তূপে বই খুঁজছিল। তার মা তানজিনা তাকে সাহায্য করছিলেন। হাবীবুর রহমান উপজেলার পূর্ব আমুচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে।
শিশু হাবীব জানায়, আগের দিন এশার পর অনেকক্ষণ পড়াশোনা করেছে। ঘুমানোর আগে বইগুলোও গুছিয়ে রেখেছিল। সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য বইগুলো আর স্পর্শ করতে পারলাম না। শিশু হাবীব চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলে এখন আমার কি হবে আমার স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে ডাক্তার হব।এখনতো আমার বইখাতা কলম সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
হাবীবের মা তানজিনা জানান, ছেলেকে মানুষ করার জন্য বাবার বাড়িতে বৃদ্ধ মায়ের সাথে থাকছেন।মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করি অল্প সল্প সেলাই কাজ করে যা পাই তাই দিয়ে মোটামোটি ছেলের লেখাপড়া বৃদ্ধা মা নিয়ে সংসার চলছে।
বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সাব-অফিসার সাইদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে দুই ইউনিট প্রায় ১ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার লিক হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে ২৫টি কাঁচা ঘর পুড়ে গেছে। এতে ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় আমুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবু জাফর বলেন, আগুনে খতিজা বেগম, মো. সেলিম উদ্দিন, মো. মোরশেদুল আলম, এরশাদুল আলম, জামশেদুল আলম, মনজুর ইসলাম, আবদুল আউয়াল, রবিউল হাসান, আব্দুর রহিম, আবু বক্কর সিদ্দিকী মো. ইউসুফ,খানিজ ফাতেমার বসতঘর পুড়ে গেছে।