গত শনিবার ৪ অক্টোবর বিকাল ৪ ঘটিকায় ঢাকার বাংলা মটরে অবস্থিত বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের দ্বিতীয় তলায় অডিটোরিয়ামে বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলাধীন বাটামারা ইউনিয়নে (প্রস্তাবিত) আড়িয়াল জয়ন্তী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এক বিশেষ সুধী সমাবেশ ও পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত সভা কোরআন তেলোয়াত ও জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। প্রস্তাবিত আড়িয়াল জয়ন্তী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের তরুণ স্বপ্নদ্রষ্টা আজমুল জিহাদ স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। তার বক্তব্যে কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি প্রস্তাবিত কলেজের নকশা ডকুমেন্টারি আকারে তুলে ধরেন। তিনি তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য বাস্তবধর্মী বিভিন্ন সমাধান ও পরিকল্পনার কথা বলেন। পদ্মা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের সহকারি শিক্ষক কে এম ওমর ফারুক প্রস্তাবিত কলেজটির লক্ষ্য – উদ্দেশ্য ও একাডেমিক খসড়া পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। একাডেমিক পরিকল্পনায় প্রস্তাবিত কলেজটিকে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপদানের নানামুখী কার্যক্রমের স্বরূপ তুলে ধরেন। কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল্ড মেডেলিস্ট ও প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির প্রভাষক আবু বকর সিদ্দিক প্রস্তাবিত আড়িয়াল জয়ন্তী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ প্রতিষ্ঠার সার্বিক পরিকল্পনাকে স্বাগত জানান এবং আধুনিক ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার সাথে পরিকল্পনাটি যথার্থ বলে বিশ্লেষণ করেন। উক্ত সুধী সমাবেশে উপস্থিত থেকে মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন বাটামারা ইউনিয়নের শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি তার মূল্যবান মতামত প্রদান করতে গিয়ে বলেন “প্রস্তাবিত কলেজ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ গ্রহণকারী সংশ্লিষ্ট সকলকে অত্যন্ত সাহসিকতা ও ধৈর্যের সাথে এগিয়ে যেতে হবে,নেতিবাচক কোন ধরনের কথার তোয়াক্কা করা যাবে না। তিনি তার বক্তব্যের শেষ দিকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রস্তাবিত কলেজের সুধী সমাবেশ ও পরামর্শ সভায় দিকনির্দেশনামূলক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন ঢাকা কমার্স কলেজের অধ্যাপক জনাব আলী আজম লাবু । তিনি তার বক্তব্যে কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে যথার্থ ও উপযোগী বলে মনে করেন। এবং কলেজের একাডেমিক ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি গবেষণা ও দক্ষতামূলক শর্ট কোর্স প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে নেয়ার জন্য পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন। সুধী সমাবেশ ও পরামর্শ সভায় উল্লেখযোগ্য মতামত ব্যক্ত করেন সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্মকর্তা ড.নাজমুল আহসান মুরাদ। বাটামারার কৃতি সন্তান হিসেবে তিনি প্রস্তাবিত কলেজ প্রতিষ্ঠার এ অগ্রযাত্রায় তরুণ প্রজন্মের সংশ্লিষ্টতাকে স্বাগত জানিয়ে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি উচ্চ মাধ্যমিকের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে টেকনিক্যাল প্রোগ্রামকে অন্তর্ভুক্ত রাখার পরামর্শ দেন। এসময় বাটামারার গর্ব, বিশিষ্ট ব্যবসাহী ও সমাজসেবক জনাব ফজলুল হক মনি বাটামারাতে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব বোঝাতে যেয়ে নানান দিকনির্দেশনা দেন। পূর্ব হোসনাবাদ ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও মুলাদী উপজেলার শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান মনির সুধী সমাবেশের পরামর্শ পর্বে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন,” মুলাদী উপজেলাধীন প্রায় সকল ইউনিয়নে কলেজ থাকলেও বাটামারার মতো একটি উল্লেখযোগ্য ইউনিয়নে কলেজ প্রতিষ্ঠিত না হওয়া সত্যিই দুঃখজনক ও এলাকাবাসীর জন্য মর্যাদাহানিকর।তিনি বিশ্বাস করেন যে, “ প্রস্তাবিত এই কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হলে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তিনি বলেন, যেখানে মেধাবী ও উদ্যোগ গ্রহণকারী এক ঝাঁক তরুন প্রজন্ম রয়েছে ; যেখানে গর্বিত শিক্ষক,গবেষক , সমাজ- সেবক ,সরকারি – বেসরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং দানশীল ব্যক্তিত্বের সংকট নেই, সেখানে কলেজ প্রতিষ্ঠা না হওয়া আড়িয়াল খাঁ ও জয়ন্তী নদীর অববাহিকায় বসবাসকারী এলাকাবাসীর জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের।