করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগে চালু হওয়া টিকাদান কর্মসূচি দেশের মানুষের জন্য আশীর্বাদ হলেও এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলায় টিকা নেওয়ার পর অনেক মানুষ বর্তমানে চর্মরোগ ও অস্বাভাবিক চুলকানিতে ভুগছেন।সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিপুলসংখ্যক রোগী। তাঁদের অভিযোগ—ভ্যাকসিন নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শরীরে ফুসকুড়ি, র্যাশ, চুলকানি, এমনকি ইনজেকশনের স্থানে লালচে ফোলা ও ব্যথা দেখা দিচ্ছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, একসঙ্গে শতাধিক রোগী চিকিৎসকের অপেক্ষায় সারিবদ্ধভাবে বসে আছেন।চর্ম বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্যাকসিন শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করার সময় সাময়িকভাবে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে—বুস্টার ডোজ গ্রহণকারীদের প্রায় ৬০ শতাংশের চর্ম প্রতিক্রিয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজে এ হার ৩১ শতাংশ এবং প্রথম ডোজে প্রায় ৮ শতাংশ।চিকিৎসকরা জানান, এসব প্রতিক্রিয়া সাময়িক ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য। অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ এবং ঠাণ্ডা সেঁক বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপশম দিতে সক্ষম। তাঁদের মতে, “করোনা থেকে সুরক্ষার জন্য ভ্যাকসিন অত্যন্ত কার্যকর। সামান্য কিছু চর্ম প্রতিক্রিয়া হলেও এটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার তুলনায় নগণ্য।”
সচেতনতার পরামর্শ
চর্মরোগের কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগের প্রয়োজন নেই। বরং জনগণকে সচেতন করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আলাদা তথ্য প্রচার অভিযান চালানো জরুরি।
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ভ্যাকসিন-পরবর্তী চর্মরোগে রোগীর চাপ বেড়েছে বটে, তবে চিকিৎসকরা আশ্বস্ত করেছেন যে এটি সাময়িক ও সহজেই নিয়ন্ত্রণযোগ্য সমস্যা। আতঙ্ক না ছড়িয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই এ পরিস্থিতি মোকাবিলার উত্তম উপায়।