লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী এলাকায় ২০১১ সালের আলোচিত আসাদুল ইসলাম দুলাল (২৭) হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে মূল আসামি মোঃ মামুনুর রশীদ ওরফে সুমনলে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এসময় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর ৭ আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক এস. এম. শফিকুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় প্রদানের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মামুনুর রশীদ সুমন কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। আদালতের রায়ে খালাস প্রাপ্তরা হলেন, মোঃ শাহিন ওরফে পিচ্ছি শাহিন, মোঃ ফরিদুল ইসলাম ওরফে ভুট্টু, মোঃ নূর আলম, মোঃ লিটন মিয়া, মোঃ রবিউল ইসলাম, মোঃ হাফিজুল ইসলাম । রায় ঘোষণার পর তাঁদের জামিনদারদের জামিনের দায় হতে অবিলম্বে অব্যাহতি প্রদানের আদেশ দেন আদালত।
মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৪ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে পাটগ্রাম উপজেলার উত্তরমারী (বুড়িমারী) এলাকায় নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পরদিন (২০১১ সালের ২৫ আগস্ট) নিহতের বাবা মফিজাল হোসেন প্রধান (৬২) বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শ্বাসনালী ও ডান পাশের প্রধান রক্তবাহী ধমনী কেটে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে দুলালের তাৎক্ষণিক মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছিল।
পরে আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় আদালত মূল আসামি মোঃ মামুনুর রশীদ ওরফে সুমনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডঃ মোঃ গোলাম মোস্তফা সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, রায় ঘোষণার পরপরই সাজাপ্রাপ্ত মামুনুর রশীদ সুমনকে কড়া পুলিশি পাহারায় লালমনিরহাট জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।