লালমনিরহাট সদর উপজেলার খোদ সাপটানা গ্রামের বাসিন্দা মো. গোলাম রাব্বানী সোহেল (৫০), পিতা—মৃত শামছুল আলম, আদালতের জারিকৃত গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ঢাকার পল্টন থানা পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার হয়েছেন।
আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, রংপুর মহানগর এলাকায় ৪৬ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনারের ঘটনায় নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যবসায়িক লেনদেনের অংশ হিসেবে ইস্যুকৃত চেকটি ব্যাংকে উপস্থাপন করলে পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে (Insufficient Fund) তা প্রত্যাখ্যাত হয়। পরবর্তীতে আইনানুগ নোটিশ প্রদান করা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার শুনানি শেষে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
প্রাপ্ত আদালতের নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, গোলাম রাব্বানী সোহেলের বিরুদ্ধে লালমনিরহাটের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসহ বিভিন্ন আদালতে চেক ডিজঅনার এবং অন্যান্য অভিযোগে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় বিভিন্ন সময়ে সমন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, জামিন আবেদন এবং আদালতের বিভিন্ন আদেশ জারি হয়েছে। আদালতের রেকর্ডে আরও দেখা যায়, বিভিন্ন বাদী অর্থ লেনদেন, চেক ডিজঅনার ও অন্যান্য অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদালতের জারিকৃত পরোয়ানা কার্যকর করতে পল্টন থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হবে।
তবে আদালতের নথি অনুযায়ী, গোলাম রাব্বানী সোহেলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর বেশ কয়েকটি এখনো বিচারাধীন এবং কোনো মামলারই চূড়ান্ত রায় হয়নি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারাধীন মামলায় আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিকে আইনগতভাবে দোষী বলা যায় না। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই আইনগতভাবে নির্ধারক হবে।