হাঁটু গেড়ে কাদাপানিতে নেমে মাছ ধরার আনন্দে মেতে উঠেছে একদল স্কুলপড়ুয়া কিশোর। তারা সবাই বন্ধু। সম্প্রতি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট এলাকার একটি বিলে দেখা যায় এমন হৃদয়ছোঁয়া দৃশ্য। স্কুলে ছুটি থাকায় বই-খাতা রেখে একসঙ্গে বিলে ছুটে আসে কয়েকজন কিশোর। কেউ আইল বেঁধে পানি সেচছে, কেউ কাদার মধ্যে হাত ঢুকিয়ে খুঁজছে মাছ। একটু পরপরই ধরা পড়ছে কই, পুটি, টাকি, বাইলা, শিং, ছোট ছোট চিংড়িসহ নানা দেশীয় প্রজাতির মাছ। মাছ পেলেই আনন্দে চিৎকার, হাসি আর উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠছে পুরো বিল। মাছ ধরা শেষে সবাই গোল হয়ে বসে সমানভাবে ভাগ করে নিচ্ছে নিজেদের ধরা মাছ। সেখানে নেই কোনো প্রতিযোগিতা, নেই কে বেশি পেল সেই হিসাব; আছে শুধু বন্ধুত্ব, ভাগাভাগি আর একসঙ্গে কাটানো আনন্দময় সময়। স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক বন্যার সময় পুকুর, ডোবা ও খাল থেকে ভেসে আসা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ওই বিলে জমা হয়। পরে পানি নেমে গেলে মাছগুলো অল্প পানিতে আটকে পড়ে। সেই সুযোগেই গ্রামের কিশোররা নেমে পড়ে মাছ ধরার উৎসবে। তাদের কাছে মাছ যতটা মূল্যবান, তার চেয়েও বেশি মূল্যবান বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো এই নির্মল সময়। পটিয়া আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আরমান বলে, “স্কুল বন্ধ থাকায় আমরা এখানে মাছ ধরতে এসেছি। সবাই মিলে মাছ ধরতে খুব ভালো লাগে। পরে সমানভাবে ভাগ করে বাড়ি নিয়ে যাই।” ধলঘাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মোস্তাফিজুর রহমানও একই অনুভূতি প্রকাশ করে। সে জানায়, বন্ধুদের সঙ্গে কাদাপানিতে নেমে মাছ ধরার আনন্দ অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনা করা যায় না। স্থানীয় একজন অভিভাবক শাহ আলম বলেন, “মোবাইল ফোন আর ডিজিটাল ডিভাইসের এই যুগে শিশুদের এমন প্রকৃতিনির্ভর আনন্দ খুব একটা দেখা যায় না। অথচ প্রকৃতির সঙ্গে মিশে কাটানো এসব মুহূর্তই শিশুদের বন্ধুত্ব, সহযোগিতা, ভাগাভাগি আর জীবনের সহজ-সরল আনন্দের মূল্য শেখায়।” গ্রামবাংলার এই চিরায়ত দৃশ্য এখন আগের তুলনায় অনেকটাই বিরল। একসময় ছুটির দিন মানেই ছিল বন্ধুদের নিয়ে খাল-বিল, মাঠ কিংবা ধানক্ষেতে ছুটে যাওয়া। সময়ের পরিবর্তনে সেই শৈশব আজ অনেকটাই স্মৃতির পাতায় বন্দি। তাই ধলঘাটের বিলে কাদাপানিতে নেমে মাছ ধরা এই কিশোরদের দেখে অনেকেরই মনে পড়ে যায় নিজের ফেলে আসা দিনগুলোর কথা। হয়তো মনে মনে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, “ইশ! এমন একটি দিন যদি আবার ফিরে পেতাম!”