ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে হাঁসের খামার পরিচালনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে পিংকি আক্তার নামে এক নারী উদ্যোক্তার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। হামলায় তার কানে গুরুতর আঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া এবং বাড়িঘর ও হাঁসের খামার পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগও করেছেন পিংকি।
ঘটনাটি পীরগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর পানুয়াপাড়া, আলীপুকুর ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন এলাকায়। পিংকির দাবি, নিজের বাড়ির পেছনে হাঁসের খামার পরিচালনা করা নিয়ে প্রতিবেশী শামিমা বেগম ও সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। খামার থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর অভিযোগে তারা থানায় বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখে খামারটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেয়।
তবে খামারের হাঁসগুলো বিক্রির উপযোগী হয়ে আসায় খামার সরাতে আরও এক মাস সময় চেয়েছিলেন পিংকি। তার দাবি, দুর্গন্ধ কমাতে নিয়মিত খামার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করতেন তিনি।পিংকির দায়ের করা এজাহার অনুযায়ী, গত ১২ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাদ্দাম হোসেন, ওসমান আলী, রোকেয়া বেগম ও শামীমা বেগমসহ কয়েকজন তার বাড়ির আঙিনায় প্রবেশ করেন। এ সময় তাকে ঘিরে ধরে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পিংকির অভিযোগ, একপর্যায়ে লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাতের চেষ্টা করা হলে তিনি সরে যান। এতে রডের আঘাত তার বাম কানে লাগে। কান দিয়ে রক্তপাত শুরু হয়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান। চিকিৎসকেরা তার কানের ভেতরের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করেছেন তিনি। হামলার সময় শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত করা এবং গলায় থাকা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন পিংকি।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর ১৫ আগস্ট থানায় এজাহার দায়ের করেন তিনি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় খামারের হাঁসগুলোর দেখাশোনা করতে না পারায় কিছু হাঁস মারা যায় বলে জানান পিংকি। পরে বাকি হাঁসগুলোও মারা যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে হাসপাতাল থেকেই পাইকারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেগুলো বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন তিনি। এতে ব্যবসার মূলধন থেকে প্রায় ৯০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি এই উদ্যোক্তার।
পিংকির আরও অভিযোগ, হামলার পর তার বিরুদ্ধেও থানায় পাল্টা অভিযোগ দেওয়া হয়। নিজের ওপর হামলা ও হুমকির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে গেলেও তার অভিযোগ মামলা হিসেবে নিতে অনীহা দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করে এজাহার দিয়েছেন তিনি।
এদিকে হাঁসের খামার পরিচালনা নিয়ে সৃষ্ট সমস্যায় উদ্যোক্তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর। পীরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমরা উদ্যোক্তা তৈরি করি, উদ্যোক্তাকে ধ্বংস করার জন্য নয়।” তিনি জানান, খামার পরিদর্শন করে পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে আবার হাঁস পালনের বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে। দুর্গন্ধ কমাতে প্রয়োজনীয় উপকরণ ও পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী দিয়েও সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।
ঘটনার বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ইকবাল হোসেন প্রামাণিক বলেন, “আমরা তার অভিযোগ পেয়েছি, সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তারা বক্তব্য দিতে রাজি হননি।হামলার অভিযোগ, হুমকি এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা দাবি করেছেন পিংকি।