1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে বালু লুটপাট মামলায় স্বাক্ষীই আসামি! - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
নিরাপদ সড়ক সবার অধিকার জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে চকরিয়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আলোচনা সভা ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ, ভোগান্তিতে রোগীরা কাজিরহাট হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আতাউর ২৩বছর পর ঢাকা পল্লবী থেকে গ্রেপ্তার গ্যাস সংকট, লোডশেডিং ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে কক্সবাজারে ১১ দলীয় ঐক্যের স্মারকলিপি ১৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণে ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ এবং গাঁজাসহ মোটরসাইকেল জব্দ ঠাকুরগাঁওয়ে নদীতে গোসল করতে নেমে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঠাকুর লক্ষীকোল উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষ রোপণ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছ বিতরন করেন জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন কাজিরহাট পূর্ব শত্রু তার জের ধরে পথ রোধ করে গৃহবধূকে মারপিট ও হত্যার হুমকি তালামীযে ইসলামিয়া কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখার মতবিনিময় ও সাধারণ সভা

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে বালু লুটপাট মামলায় স্বাক্ষীই আসামি!

– পুলিশের বিরুদ্ধে ‘মামলা বাণিজ্য’-এর বিস্ফোরক অভিযোগ

reporter ফয়ছল আহমদ নুমান
calendar প্রকাশিত: ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৩:০৩ অপরাহ্ণ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে বালু লুটপাটের একটি মামলায় স্বাক্ষীকে আসামি করাসহ পুলিশের বিরুদ্ধে ‘মামলা বাণিজ্য’-এর অভিযোগ উঠেছে। মামলায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া একাধিক ব্যক্তি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ কোম্পানীগঞ্জ থানায় কালাইরাগ, বাংকার ও সাদাপাথর এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু লুটপাটের অভিযোগে ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০০-১৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। থানার এসআই আমিরুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন এবং ওসি শফিকুল ইসলাম খান-এর স্বাক্ষরে তা রেকর্ড হয়। মামলার নম্বর ২৪।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর থেকে অভিযুক্তরা উক্ত এলাকাগুলো থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকার বালু লুটপাট করেছে।
তবে মামলার অভিযুক্ত কয়েকজনের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। মামলার ৪ নম্বর আসামি মশাহিদ আলী অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার কাজল সিং তাকে ফোন করে পুলিশ যেখানে বসা ছিল সেখানে যেতে বলেন। সেখানে উপস্থিত হলে পুলিশ ও কাজল মেম্বার তার কাছে জানতে চান কারা বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। তিনি জানান, তিনি বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন এবং এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।
মশাহিদ আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে পুলিশ তাকে স্বাক্ষী হিসেবে একটি কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলেন। প্রথমে অস্বীকৃতি জানালেও পরে ওয়ার্ড মেম্বারের কথায় তিনি স্বাক্ষর করেন। পরদিন সন্ধ্যায় তিনি জানতে পারেন, তাকেই মামলার ৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, “যাদের নাম তখন কাগজে ছিল, তাদের অনেকের নাম মামলায় নেই। আমারসহ কয়েকজন নিরীহ মানুষের নাম যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা লেনদেনের মাধ্যমে প্রকৃত আসামিদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।”
একই অভিযোগ করেন মামলার ১৪ নম্বর আসামি মাসুক মিয়া। তিনি বলেন, “আমার বাড়ি ধলাই ব্রিজের পাশে। আমি ধলাই ব্রিজ রক্ষা আন্দোলনের কর্মী। বালু ব্যবসার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। গত ছয় মাসে আমি দয়ারবাজার বা কালাইরাগ এলাকায় যাইনি। পূর্বশত্রুতার জেরে টাকার বিনিময়ে আমার নাম মামলায় ঢোকানো হয়েছে বলে মনে করি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “পুলিশ ট্রাক্টর ও পেলুডার আটক করলেও কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দেয়। পরে শুনি যাদের কোনো গাড়ি বা বালু ব্যবসা নেই, তারাই মামলার আসামি। পুলিশের এসব নাটক বন্ধ হওয়া দরকার।”
এ বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার কাজল সিং বলেন, “মামলায় যাদের নাম এসেছে আমি তাদের চিনিনা। এসব ঝামেলায় জড়াতে চাই না।”
তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ প্রসঙ্গে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “মামলাটি তাৎক্ষণিকভাবে রেকর্ড করা হয়েছে। অধিকতর তদন্ত শেষে যদি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়, চার্জশিট দেওয়ার সময় তা বাদ দেওয়া হবে। নিরীহ কাউকে হয়রানি করা হবে না।”
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং নিরীহ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com