মো: নূরুল আমিন, কলাপাড়া প্রতিনিধি: পটুয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব মোঃ মাহবুবুর রহমান তালুকদার রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২ টায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর)বাদ জোহর তাঁর নির্বাচনী এলাকা কলাপাড়া কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ মাঠে তাঁর প্রথম নামাজে জানাজা এবং আসর নামাজ বাদ উপজেলার বালিয়াতলীতে ২য় নামাজে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহীত করা হবে।মাহবুবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও কিডনিসহ বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। রোববার দুপুরে তিনি ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু বরন করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছেলো ৭৬ বছর।সর্বশেষ ২২ দিন আগে তিনি অসুস্থবোধ করলে মিরপুরের ডিওএইচএস এর বাসা থেকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।পটুয়াখালী-৪ আসন থেকে তিনি ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০৩ সাল থেকে তিনি কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৪ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহন করে তিনি পরাজয় বরন করেন। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষন বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন।
সম্প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এক স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি ব্যাপক আলোচিত হয়ে ছিলেন। ওই পোষ্টে সাবেক প্রতিমন্ত্রী,‘বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা:-ছাত্ররা কোটায়, শিক্ষকেরা পেনশনে, অভিভাবকেরা টেনশনে, শিক্ষা ব্যবস্থা গোরস্থানে আর দুর্নীতি শীর্ষস্থানে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন । উল্লেখ্য তিনি ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়, কুয়াকাটাকে আন্ত:র্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র, রাঙ্গাবালী উপজেলা, কলাপাড়াকে ১ম শ্রেণির পৌরসভা, কুয়াকাটা পৌরসভা, মহিপুর থানা, পায়রা সমুদ্র বন্দর, ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের উন্নয়ন, বিভিন্ন ব্রীজ-কালভার্ট-ভবন নির্মান, পায়রা ১৩২০ মেঘাওয়াট তাপ বিদ্যূৎ কেন্দ্র, ২য় সাব-মেরিন লেন্ডিং ষ্টেশন, কলাপাড়ায় জজ কোর্টসহ কলাপাড়া রাঙ্গাবালীর ব্যাপক উন্নয়ন করেন। তবে ক্ষমতায় থাকাকালিন দূর্নীতি ও স্বজন প্রীতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ছাড়াও ছাত্র দল নেতা জিয়া হত্যা মামলায় তাকে আসামী করা হয়।