প্রকৃতি ও পাহাড়ের অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়ন। তবে পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ, বন উজাড় ও ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় ক্রমেই বদলে যাচ্ছে এলাকার পরিবেশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের একাধিক অভিযান এবং হাই কোর্টের নির্দেশনার পরও বন্ধ হয়নি অবৈধভাবে পাহাড় কাটা ও ইটভাটা পরিচালনার কার্যক্রম।
অভিযোগ রয়েছে, ফাইতং ইউনিয়নে বর্তমানে ৩১টি ইটভাটা চালু রয়েছে। এসব ভাটার একটিরও বৈধ পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই বলে স্থানীয়দের দাবি। কোনো কোনো ইটভাটার অবস্থান ফসলি জমি ও জনবসতির কাছাকাছি। এমনকি সরকারি সংরক্ষিত বনের সীমানার ভেতরেও কয়েকটি ইটভাটার চিমনি দেখা গেছে বলে সরেজমিনে জানা গেছে।
২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট হাই কোর্টের নির্দেশনার পর বান্দরবান জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতর ফাইতং ইউনিয়নে অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে বুলডোজার দিয়ে সাতটি ইটভাটা ভেঙে দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযান শেষ করে কর্মকর্তারা এলাকা ছাড়ার কিছুদিনের মধ্যেই ভাঙা ভাটাগুলোর কয়েকটি আবারও নির্মাণ করে চালু করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান অনেক ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ করলেও পরবর্তীতে আবারও ইট পোড়ানো শুরু হয়। ফলে পাহাড় কাটা ও বন থেকে কাঠ সংগ্রহের কার্যক্রমও পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না।
হাই কোর্টের নির্দেশের পরও কীভাবে ভাটা পুনর্নির্মাণ করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ফোরবিএম ইটভাটার মালিক খাইরুল মাস্টার বলেন, “আমরা সকলকে ম্যানেজ করে ইটভাটা পরিচালনা করি। এখানে লোক দেখানো অনেক অভিযান পরিচালনা করা হবে, কিন্তু আমাদের কোনো ইটভাটা বন্ধ হবে না।”
সরেজমিনে দেখা যায়, ইট তৈরির প্রধান কাঁচামাল মাটি সংগ্রহের জন্য এস্কেভেটর দিয়ে বড় বড় পাহাড় কাটা হচ্ছে। কোথাও কোথাও পাহাড়ের বিশাল অংশ কেটে মাটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে পাহাড়ের স্বাভাবিক ভূমিরূপ পরিবর্তনের পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।
পাহাড় কাটার কারণে পরিবেশ ও প্রতিবেশব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন পরিবেশসংশ্লিষ্টরা।ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে কাঠ সংগ্রহ করে কিছু ভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।তবে ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোক্তার মেম্বার বলেন, “আমরা তো কয়লা দিয়ে ভাটা চালাই। কিন্তু এখানে অনেক ইটভাটা আছে, যারা বনের কাঠ দিয়ে ভাটা পরিচালনা করে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
এই বিষয় সেক্রেটারি নাজুকে কল দিলে মোবাইল বন্ধ করে রাখেন।বান্দরবান পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক নুর হাসান সজীব বলেন, “পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”স্থানীয়দের প্রশ্ন, একের পর এক অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা হওয়ার পরও যদি ভাঙা ইটভাটা পুনরায় চালু হয় এবং পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ অব্যাহত থাকে, তাহলে এসব অভিযান কতটা কার্যকর হচ্ছে?
লামার স্থানীয় সাংবাদিক আদিল আহম্মেদ চৌধুরী নুরুল ইসলাম সুমন কে বলেন, তাদের দাবি, শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, হাই কোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, অবৈধ ইটভাটা স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং পাহাড় ও সংরক্ষিত বন রক্ষায় কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে চকরিয়ার মানিকপুর, হারবাং, কাকারা ও ফাইতং পাশাপাশি এলাকায় পাহাড় কাটা ও সংরক্ষিত বনের ভেতর পরিবেশ আইন অমান্য করে গড়ে উঠেছে বহু অবৈধ ইটভাটা তৈরির প্রধান কাঁচামাল মাটি সংগ্রহের জন্য এস্কেভেটর দিয়ে বড় বড় পাহাড় কাটা হচ্ছে। কোথাও কোথাও পাহাড়ের বিশাল অংশ কেটে মাটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।