কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মোহনা টেলিভিশনের কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধির কার্যালয়ের মালামাল লুটের ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—দাউদকান্দি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দোনারচর গ্রামের বাসিন্দা রায়হান সরকার শুভ (২৭), পিতা আব্দুল করিম মুন্সী এবং মো. আশিকুল ইসলাম শান্ত (২৭), পিতা মো. শাহিন মিয়া।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দাউদকান্দি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন জানান, মোহনা টেলিভিশনের অফিসের মালামাল চুরির ঘটনায় গত ৫ আগস্ট ভোর ৫টার দিকে আসামিদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, মোহনা টেলিভিশনের কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধি মো. সাহাব উদ্দিন গত ১১ জুলাই ২০২৬ তারিখে তার অফিসকক্ষ থেকে মালামাল চুরির অভিযোগে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটি নং-২১/২৩৬ এবং দণ্ডবিধির ৪৫৪/৩৮০ ধারায় রুজু করা হয়। পরে মামলাটির তদন্তভার পান এসআই মনির হোসেন।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, বাদীর সরবরাহ করা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও শনাক্তের ভিত্তিতে রায়হান সরকার শুভ ও মো. আশিকুল ইসলাম শান্তকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত দুই আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
মামলার বাদী মোহনা টেলিভিশনের কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধি মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ঘটনার দিন বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট থেকে ৪টা ২০ মিনিটের মধ্যে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অফিসের তালা ভেঙে ডিজিটাল সাইনবোর্ড, ক্যামেরা, বুম, ল্যাপটপসহ অফিসের বিভিন্ন মালামাল একাধিক ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “এটি সাধারণ চুরির ঘটনা নয়; এটি গণমাধ্যমের ওপর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।” ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, এ ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ মামলার দুই প্রত্যক্ষদর্শী ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিদের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং চুরি হওয়া মালামাল কোথায় রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।