গাজীপুর ও ঢাকার আশপাশের এলাকায় ছিনতাইকারীরা নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। তারা ব্যাটারি চালিত অটোয় যাত্রী সেজে উঠে, ফাঁকা স্থানে গিয়ে সহযাত্রীদের ধারালো অস্ত্রের মুখে সর্বস্ব লুটে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিরোধ করলে কুপিয়ে জখম বা হত্যার ঘটনাও ঘটছে।
গাজীপুরের টঙ্গী, স্টেশন রোড, চেরাগ আলী, কলেজ রোড, এশিয়া পাম্প, তারগাছ, বড়বাড়ি, সাইন বোর্ড, বাইপাস চৌরাস্তা, গাজীপুর চৌরাস্তা এবং ঢাকার আব্দুল্লাহপুর, এয়ারপোর্টসহ সারা দেশে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েই চলেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইজি অটোয় দুই-একজন যাত্রী সেজে বসে থাকে ছিনতাইকারীরা। এরপর আরও দুই-একজন উঠানামা করে। ফাঁকা স্থান পেলেই তারা সবাই মিলে অন্যান্য যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নেয়।
গাজীপুর মহানগর এলাকায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রেকর্ড হয়েছে। পুলিশ সহস্রাধিক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এ সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
ছিনতাই প্রতিরোধ করতে চাইলে যাত্রীদের ওপর নির্মম অত্যাচার চালায় দুর্বৃত্তরা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটছে। মাঝে মধ্যে যাত্রীরা প্রাণ হারাচ্ছেন।
গত ৯ জুলাই টঙ্গীর গাজীপুরা জিলানি মার্কেট এলাকায় এক নারী যাত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে একটি স্টিলের ছুরি ও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) জানিয়েছে, ছিনতাই প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চেকপোস্ট, নিয়মিত টহল, ব্লক রেইড এবং বিশেষ অভিযান দল গঠন করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া অনেক ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে আগেও একই ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, টঙ্গী কলেজগেট থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত এলাকা ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। রাত দশটার পর কেউ নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে না।
পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুত বিচার আইন, অস্ত্র আইন এবং ডাকাতির প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে জননিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।