‘সাহিত্য-সংস্কৃতি ও প্রযুক্তি—গড়ে উঠুক মানবিক পৃথিবী’ প্রতিপাদ্যে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের দুই দিনব্যাপী ১০ম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের সমাপনী অনুষ্ঠান রবিবার (২৬ জুলাই) উৎসবমুখর ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর কেক কাটা, বেলুন উড়ানো এবং পায়রা অবমুক্ত করা হয়। এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাস উৎসবের রঙে মুখরিত হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণিল শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে দিবসটির আনন্দঘন আবহ আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে কবিগুরুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর তাহমিনা আখতার।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আয়োজনের অংশ হিসেবে ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় নবীনদের হাতে কলম, ডিকশনারি, কোর্স আউটলাইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইল তুলে দেওয়া হয়। সিনিয়র শিক্ষার্থীরা তাদের ফুলের শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের নতুন সদস্য হিসেবে স্বাগত জানান। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তারা জ্ঞানচর্চা, মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা এবং নৈতিকতার আলোকে নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান করেন, প্রফেসর তাহমিনা আখতার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, মাননীয় সংসদ সদস্য, সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩০ । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব হেলেন জেরিন খান, মাননীয় সংসদ সদস্য, সংরক্ষিত মহিলা আসন-৯।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া। সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন প্রফেসর ডা. ফিরোজ আহমদ, মননীয় ট্রেজারার রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।
বক্তারা বলেন, শিক্ষা, গবেষণা, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানচর্চার সমন্বয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় একটি মানবিক, উদ্ভাবনী ও আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার পথে দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয়টি ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, আমন্ত্রিত অতিথি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাস উৎসবের আবহে মুখরিত হয়ে ওঠে। নানা আয়োজন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও অংশগ্রহণমূলক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের ১০ম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের সফল ও বর্ণাঢ্য সমাপ্তি ঘটে।
সাহিত্য – সংস্কৃতি ও প্রযুক্তি গড়ে উঠুক মানবিক পৃথিবী গৌরবের দশম বর্ষে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়।