মাদারীপুরে প্রেমের বিয়েকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে এক ব্যক্তিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। আহত ব্যক্তি বর্তমানে মাদারীপুরের ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত ইদ্রিস ফকিরের অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে মাদারীপুর সদর উপজেলার কুকরাইল এলাকার আজিজ হাওলাদারের মেয়ে শম্পা আক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে শিবচর উপজেলার একটি কাজী অফিসে ১ লক্ষ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
তিনি দাবি করেন, বিয়ের প্রায় সাত দিন পর শম্পা আক্তার পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আটক রাখেন। পরে শম্পা আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক আরও ২ লক্ষ টাকা কাবিন ধার্য করে পুনরায় বিয়ের ব্যবস্থা করেন। একই সঙ্গে তার পরিবারের কাছে ফোন করে জানানো হয়, ২ লক্ষ টাকা পরিশোধ করেই তাকে নিয়ে যেতে হবে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলতে থাকে। ইদ্রিস ফকিরের অভিযোগ, পরবর্তীতে শম্পা আক্তার বিভিন্ন সময়ে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলেন, তার বিরুদ্ধে মাদারীপুর জজ কোর্টে মামলা করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইদ্রিস ফকির তার বিরুদ্ধে লিগ্যাল এইডে কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কিনা তা জানতে মাদারীপুর জজ কোর্টে যান। সেখানে তার উপস্থিতির খবর পেয়ে শম্পা আক্তারের নেতৃত্বে দেদোল, রুনু বেগম ও অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন তাকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে জোরপূর্বক বাইরে নিয়ে যায়।
এরপর আদালতের সামনের সড়কে হাতুড়ি, লাঠি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার মাথা, হাত ও পায়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা, ব্যবহৃত অটোরিকশা এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন।
স্থানীয় লোকজন আহত ইদ্রিস ফকিরকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে আহতের পরিবার পক্ষ থেকে জানা যায়।