সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন এক মা। কোলে তার দুগ্ধপোষ্য শিশু। পরীক্ষা শুরু হতেই অবুঝ শিশুটিকে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েন তিনি। মায়ের সেই অসহায়ত্ব ও উদ্বেগ ছুঁয়ে গেল কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তার মন। পরীক্ষার পুরোটা সময়জুড়ে সেই শিশুকে নিজের কোলে আগলে রাখলেন খোদ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)। মায়ের কোল থেকে যেন আরেকটি নিরাপদ কোলেই আশ্রয় পেল শিশুটি। আর কোনো উদ্বেগ ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করলেন সেই মা।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন ব্যতিক্রমী ও মানবিক দৃষ্টান্ত এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয়দের মুখে মুখে প্রশংসায় ভাসছে। জনবান্ধব প্রশাসনের এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করা এই কর্মকর্তার নাম মো. আনোয়ার হোসাইন। তিনি ফুলবাড়ী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত।
জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেল ৩টায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম ও মডেল মসজিদের নিচতলায় একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিপুল সংখ্যক চাকরিপ্রত্যাশী অংশ নেন।
পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে এসিল্যান্ড মো. আনোয়ার হোসাইন লক্ষ্য করেন, এক নারী পরীক্ষার্থী তার ছোট্ট শিশুকে নিয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছেন। কিন্তু পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর শিশুটির দেখাশোনা করার মতো কেউ না থাকায় ওই মা বেশ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন, যা তার পরীক্ষায় মনোযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিঘ্ন ঘটাচ্ছিল।
পরিস্থিতি অনুধাবন করে তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে আসেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনোয়ার হোসাইন। তিনি নিজেই শিশুটিকে কোলে তুলে নেন এবং স্নেহভরে সময় কাটিয়ে তাকে শান্ত রাখেন। এর ফলে ওই পরীক্ষার্থী মা কোনো ধরনের মানসিক চাপ ছাড়াই পরীক্ষা দিতে সক্ষম হন। এ সময় কেন্দ্রে উপস্থিত অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারাও তাকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেন।
প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন সংবেদনশীল ও মানবিক আচরণের দৃশ্যটি পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত অন্য পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরীক্ষা শেষে উপস্থিত সকলেই এসিল্যান্ডের এই মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এদিকে ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন মা যেন মাতৃত্বের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, সেই সংবেদনশীলতা বজায় রেখে সহকারী কমিশনার (ভূমি) যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এ ধরনের জনবান্ধব আচরণ সরকারি সেবার প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে।