নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রত্যক্ষ সমর্থন ও সহযোগিতা নিয়ে জয়লাভের পর, এখন দলটিকে নিয়েই চরম বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে এনসিপি নেতা মুকুলের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এক রাজনৈতিক বক্তব্যে তিনি জামায়াতকে “গুপ্ত” হিসেবে আখ্যায়িত করায় স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ভোটের স্বার্থে মিত্র, জয় শেষে ‘গুপ্ত’
অনুসন্ধানে জানা যায়, নির্বাচনকালীন সময়ে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল এবং ব্যালট বাক্সে জয় নিশ্চিত করতে জামায়াতের তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ মাঠপর্যায়ের সহযোগিতা নিয়েছিলেন এনসিপি নেতা মুকুল। স্থানীয় রাজনীতিতে নিজের প্রভাব মজবুত করতে সে সময় দলটির শীর্ষ থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের কর্মীদেরও আপন করে নিয়েছিলেন তিনি। তবে ভোটের আমেজ শেষ হতে না হতেই তাঁর এমন নাটকীয় সুর বদল এবং জামায়াতকে “গুপ্ত” সংগঠন বা শক্তি হিসেবে অভিহিত করায় খোদ তাঁর নির্বাচনী এলাকাতেই চলছে নানামুখী গুঞ্জন।
জামায়াতের তীব্র নিন্দা: ‘রাজনৈতিক অকৃতজ্ঞতার চরম দেউলিয়াপনা’
মুকুলের এমন আপত্তিকর মন্তব্যের পর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব এই বক্তব্যকে “রাজনৈতিক অকৃতজ্ঞতা ও চরম দেউলিয়াপনা” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক জামায়াত নেতা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন:
”নির্বাচনে জয়ের জন্য যখন ভোটের প্রয়োজন ছিল, তখন আমাদের সমর্থন নিতে ও হাত মেলাতে উনার কোনো দ্বিধা বা সংকোচ ছিল না। আজ জয়ী হয়ে উনি আমাদের ‘গুপ্ত’ বলছেন! এটি উনার চরম দ্বিমুখী নীতি ও রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানের এক জ্বলন্ত প্রমাণ। ক্ষমতার লোভে মানুষ কতটা রঙ বদলাতে পারে, তা উনাকে না দেখলে বিশ্বাস করা যেত না।”
যা বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নিজের একক অবস্থান তৈরি করা কিংবা নির্দিষ্ট কোনো মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই হয়তো এনসিপি নেতা মুকুল এ ধরনের দ্বিমুখী অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তবে ভোটের রাজনীতিতে এই ধরনের ‘ইউ-টার্ন’ বা ডিগবাজি তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক ভাবমূর্তি তো বটেই, পাশাপাশি তাঁর দল এনসিপির বিশ্বাসযোগ্যতাকেও দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়
এদিকে মুকুলের এই বক্তব্যের অডিও-ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তীব্র সমালোচনা চলছে। সাধারণ ভোটার ও নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলছেন— নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পরপরই কেন একজন নেতার রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও আদর্শ এতটা দ্রুত বদলে যায়? রাজনীতির এই ‘সুযোগসন্ধানী’ রূপ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝেও ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে।
এই বিষয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি ও দলটির অবস্থান জানতে এনসিপি নেতা মুকুলের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।