আমীরে হিযবুল্লাহ ছারছীনা শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা.জি.আ.) বলেছেন- নবীজি (সাঃ) শুধু ইবাদতের শিক্ষা দেননি; তিনি মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হবে, পরিবারে কীভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, প্রতিবেশীর অধিকার কী, দরিদ্র ও অসহায়ের পাশে কীভাবে দাঁড়াতে হবে এবং সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ কীভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে তারও বাস্তব শিক্ষা দিয়ে গেছেন। তাই রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর আদর্শকে শুধু আলোচনা ও ওয়াজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে জীবন পরিচালনা করলেই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে প্রকৃত শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এককথায় নবীজি (সাঃ) এর জীবনাদর্শ মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ ও অনুকরণীয় পথনির্দেশ।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষ নানা ধরনের অশান্তি, হিংসা, বিভেদ, নৈতিক অবক্ষয় ও মূল্যবোধের সংকটে নিমজ্জিত। এর অন্যতম কারণ হলো আমরা কুরআন-সুন্নাহ ও রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর আদর্শ থেকে ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছি। মানুষের জীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে নবীজির (সাঃ) চরিত্র, ন্যায়নীতি, ক্ষমাশীলতা, ধৈর্য, আমানতদারি, সত্যবাদিতা ও মানবিকতার শিক্ষা অনুসরণ করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর জীবন ছিল সত্য, ন্যায়, দয়া, ক্ষমা, ভালোবাসা ও মানবকল্যাণের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি শত্রুকেও ক্ষমা করেছেন, অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করলে সমাজ থেকে হিংসা-বিদ্বেষ, অন্যায়, প্রতারণা ও অশান্তি দূর করে পারস্পরিক ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
তিনি উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন- নবীপ্রেমের দাবি শুধু মুখে প্রকাশ করলেই হবে না; বরং তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ, তাঁর চরিত্র ধারণ এবং তাঁর শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার মধ্যেই প্রকৃত নবীপ্রেমের প্রকাশ ঘটাতে হবে। নবীজির (সাঃ) আদর্শকে জীবনের পথনির্দেশ হিসেবে গ্রহণ করতে পারলেই দুনিয়ায় শান্তি এবং আখিরাতে কল্যাণ লাভ করা সম্ভব।
১৫ আগষ্ট শনিবার পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদ-ই-মীলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন ও ছারছীনা শরীফের মরহুম পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ (রহঃ) এর ২য় ইন্তেকাল বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঈসালে সওয়াব ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিলে প্রধান অতিথির আলোচনায় একথা বলেন।
মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সিনিয়র নায়েবে আমীর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা হাফেজ শাহ্ আবু বকর মোহাম্মদ ছালেহ নেছারুল্লাহ, ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত জামেয়ায়ে নেছারীয়া দীনিয়ার নায়েবে মুদীর মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ যুব হিযবুল্লাহর কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মোঃ মফিজ উদ্দীন, হযরত পীর ছাহেব কেবলার সফরসঙ্গী মাওলানা মোহেব্বুল্লাহ আল মাহমুদ প্রমূখ।