দুলারহাট থানা পুলিশের তৎপরতায় ‘জ্বিন হাজির’ করে স্বর্ণালঙ্কার দ্বিগুণ করে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণাকারী চক্রের ৪ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত ০৪/০২/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ অনুমান ০৭.৩০ ঘটিকায় দুলারহাট থানাধীন নুরাবাদ ৫নং ওয়ার্ডের মকবুল মুন্সির বাড়ির ভেতর ৭নং সাক্ষী ইয়ানুর বেগমের বসত ঘরে এই প্রতারণার ঘটনা ঘটে। প্রতারক চক্রটি স্থানীয় ১৭ জন মহিলার সরলতার সুযোগ নিয়ে জ্বিন হাজিরের মাধ্যমে স্বর্ণ দ্বিগুণ করার প্রলোভন দেখায়। তাদের এই ফাঁদে পা দিয়ে ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন ওজনের মোট ১০ ভরি ১১ আনা স্বর্ণালঙ্কার (যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১৫,৪৬,০০০/- টাকা) প্রতারকদের হাতে তুলে দেন। স্বর্ণ নেওয়ার পর আসামীরা গা ঢাকা দেয়।
পরবর্তীতে, গত ২৭/০৭/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ বিকালে উক্ত প্রতারক চক্রটি পুনরায় প্রতারণার উদ্দেশ্যে নুরাবাদ ৫নং ওয়ার্ড এলাকায় স্বর্ণ হাতিয়ে নিতে আসলে ভুক্তভোগীরা তাদের প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং ৪ জন আসামীকে আটকে রাখেন। সংবাদ পেয়ে দুলারহাট থানা পুলিশের একটি টিম তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আসামীদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলো:
১. মোসাঃ রুমা (৩০), পিতা-মৃত আব্দুল লতিফ, সাং- নুরাবাদ, ০৫নং ওয়ার্ড, থানা-দুলারহাট, জেলা-ভোলা।
২. মোসাঃ মুক্তা (২৬), পিতা- নাগর চৌকিদার
৩. মোঃ স্বপন ফরাজী (৫০), পিতা- মৃত আব্দুল লতিফ ফরাজী
৪. মোঃ আলামিন (২৬), পিতা- স্বপন ফরাজী
সর্ব সাং- মজিবনগর, ০৮নং ওয়ার্ড, থানা- দুলারহাট, জেলা-ভোলা।
উদ্ধারকৃত আলামত: গ্রেফতারকৃত আসামীদের স্বীকারোক্তি ও পুলিশ ফোর্সের সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে নিম্নোক্ত আলামতসমূহ উদ্ধার করা হয়েছে:
১। ১ জোড়া স্বর্ণের রুলি যার ওজন চাচসহ ৪ ভরি ১২ আনা বা ৫৫.৪৫ গ্রাম, আনুমানিক মূল্য ১,৫০,০০০/- টাকা।
২। ১ জোড়া স্বর্ণের ঝুমকা যার ওজন ১২ আনা ৩ রত্তি বা ৯.১৬ গ্রাম।
৩। নগদ অর্থ: ৫২,০০০/- (বায়ান্ন হাজার) টাকা।
এ সংক্রান্তে ভুক্তভোগী বাদীর লিখিত এজাহারের প্রেক্ষিতে দুলারহাট থানার মামলা নং-৯, তারিখ: ২৮/০৭/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা- ৪০৬/৪২০ পেনাল কোড রুজু করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামীদের গ্রেফতার এবং অবশিষ্ট স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অপরাধ ও প্রতারণা দমনে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করুন। জেলা পুলিশ, ভোলা সবসময় আপনার পাশে।