-চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কাট্টলীতে উন্নয়নের নানা প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যেও নাগরিক দুর্ভোগের পরিসমাপ্তি ঘটছে না। ভাঙাচোরা সড়ক, অপরিষ্কার ও ভরাট নালা, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং চলমান স্যুয়ারেজ ও ড্রেনেজ প্রকল্পের ধীরগতির কারণে বাসিন্দারা বারবার ভোগান্তিতে পড়ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে হাঁটু সমান, কোথাও কোথাও তার থেকেও বেশি পানি জমে। নালা-নর্দমা আবর্জনা ও পলিতে ভরাট থাকার ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে ভাঙাচোরা সড়কে বৃষ্টির পানিতে গর্ত ঢেকে যাওয়া সামান্য দুর্ঘটনার কারণ बनছে। শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
দক্ষিণ কাট্টলীর সড়কটি সাগরপাড়, হরিমন্দির, ফইল্যাতলী বাজার এবং সাগরিকা স্টেডিয়ামের সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। কিন্তু বৃষ্টির সময় ড্রেনের পানি সড়কে উঠে এসে জনজীবনকে স্থবির করে দিচ্ছে। সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান নিরীক্ষণ করে দ্রুত কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু এরপরও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল বলেন, ‘এখানে সিটি করপোরেশনের নির্দিষ্ট ডাস্টবিন নেই। অনেক সময় ময়লা সঠিকভাবে অপসারণ করা হয় না। ফলে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।’ অন্যদিকে, এক অটোরিকশা চালক বলেন, ‘ভাঙা রাস্তায় গাড়ি চালানোই কষ্টকর। দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বেড়ে গেছে, বিশেষ করে মাস্টারবাড়ি ব্রিজ এলাকায়।’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তার জলাবদ্ধতা ও অন্যান্য সমস্যার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিরূপ প্রতিফলন ঘটছে। এক ব্যবসায়ীর দাবি, ‘বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি, কারণ বৃষ্টি হলেই দোকানে পানি ঢুকে যায়।’ স্থানীয় দোকানদাররাও জানান, রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান থাকায় ক্রেতা সংখ্যা কমে গেছে।
শিক্ষার্থীরা সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে পারছে না এবং কর্মজীবীরা প্রতিদিন ভোগান্তিতে আছেন। প্রবীণাদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ বছর ধরে সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার আশ্বাস মিললেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এনিয়ে, এলাকাবাসী তাদের মৌলিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সজাগ হয়ে উঠেছেন। তাদের মতে, নিরাপদ এবং নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত না হলে উন্নয়নের সুফল অনুভব করা সম্ভব নয়। দক্ষিণ কাট্টলীর মানুষ এখন ভাঙাচোরা সড়ক, ভরাট নালা ও জলাবদ্ধতার মতো সমস্যার সঙ্গে যুদ্ধ করছেন।