ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা ও সরকারি কলেজের শিক্ষকদের নাম ব্যবহার করে জাল স্বাক্ষর ও নকল সিল দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সত্যায়িত করার রমরমা ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্যেই কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রতি পাতা ২০ থেকে ৫০ টাকা নিয়ে এ অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের আমতলা চৌরাস্তা সংলগ্ন নাজমা মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কয়েকটি কম্পিউটার ও ফটোকপি প্রতিষ্ঠানে আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত সনদ, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রে জাল স্বাক্ষর ও নকল সিল ব্যবহার করে সত্যায়িত করা হচ্ছে। এ কাজে প্রতি পাতা বাবদ নেওয়া হচ্ছে ২০ থেকে ৫০ টাকা।
জানা যায়, সম্প্রতি সরকারি ফ্যামিলি কার্ড শুমারির আবেদন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর সত্যায়িত কাগজপত্রের চাহিদা বেড়ে যায়। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নামে জাল সিল তৈরি করে এবং তাদের স্বাক্ষর নকল করে আবেদনকারীদের কাগজপত্র সত্যায়িত করে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে এভাবেই সত্যায়িত করে আবেদন জমা দিয়েছেন শতাধিক প্রার্থী।
অভিযোগ রয়েছে, ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ ও ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক এবং বিভিন্ন বিভাগের প্রভাষকদের নামেও জাল সিল তৈরি করা হয়েছে। এসব সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সত্যায়িত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে যেসব শিক্ষক ও কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, তাদের নাম ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবহার করা হচ্ছে—এ বিষয়ে তারা আগে অবগত ছিলেন না। তারা এ ঘটনাকে সম্পূর্ণ বেআইনি উল্লেখ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
কিন্তু তাদের সিল স্বাক্ষর দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তরা বলেন, স্যারদের কাছ থেকে আমাদের অনুমতি নেওয়া আছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আবেদনকারী বলেন, দ্রুত কাজ সম্পন্ন হওয়ায় অনেকেই যাচাই-বাছাই না করেই এসব দোকান থেকে কাগজপত্র সত্যায়িত করছেন। একদিকে আবেদনের সময়সীমা কম অন্যদিকে সত্যায়িত করার ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে তারা সেখানে সত্যায়িত করছেন।
সচেতন মহলের মতে, জাল স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করে সরকারি বা শিক্ষাগত নথি সত্যায়িত করা গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি নথির নিরাপত্তা ও জনসাধারণের আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। তাই দ্রুত অভিযান চালিয়ে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম বলেন, সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।