বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার কাঁঠালী ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দল-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৫টায় কাঁঠালী ইউনিয়নের বিন্যাবাড়ী বাজার সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন মাওলানা নুর ইসলাম। কর্মী সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কাঁঠালী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর সিদ্দিকুর রহমান বিপ্লব এবং সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন সেক্রেটারি তহিদুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নীলফামারী জেলা জামায়াতের শূরা সদস্য ও নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মোখলেছুর রহমান মাস্টার, উপজেলা নায়েবে আমীর ও জলঢাকা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলহাজ কামারুজ্জামান, উপজেলা সহ-সেক্রেটারি এ.এ.এম. প্রফেসর মুজাহিদ মাসুম এবং কাঁঠালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা রাশেদুজ্জামান।
বক্তারা সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং জনগণের আস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি এমপি বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সব কাজ একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। প্রতিটি ইউনিয়নে সৎ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি প্রয়োজন। এ সময় তিনি কাঁঠালী ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনকল্যাণের লক্ষ্যে জামায়াত-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মাওলানা রাশেদুজ্জামানের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন এবং তাঁকে বিজয়ী করতে ভোটারদের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ জন অসহায় ব্যক্তির মাঝে ৬০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা, ১২ জনকে শাড়ি বিতরণ, কাঁঠালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ২ লাখ টাকার উন্নয়ন সহায়তা এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সড়ক উন্নয়নের জন্য ৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সমাপনী বক্তব্যে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা রাশেদুজ্জামান বলেন, “আমি আপনাদের সন্তান, ভাই ও ভাতিজা হিসেবে দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করছি। আপনাদের পরামর্শ ও সমর্থন নিয়ে এলাকার উন্নয়ন এবং জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।”
সভাপতির বক্তব্যে সিদ্দিকুর রহমান বিপ্লব বলেন, কর্মী সম্মেলন সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তি, ঐক্য ও আদর্শিক অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করেছে। আগামী দিনে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, জনগণের পাশে থেকে কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে নেতাকর্মীদের নিষ্ঠা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনার মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।