মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদকবিরোধী র্যালি ও সচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৬ আগষ্ট ২০২৬ ইং রোববার চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পুলিশ, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। কুমিল্লা জেলা পুলিশের বিশেষ উদ্যোগে জেলাজুড়ে মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং মাদক কারবারিদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে জনগণকে উৎসাহিত করাই এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
সমাবেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, মাদক একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই মাদক নির্মূলে প্রশাসন ও পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত হতে হবে।তিনি বলেন, সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুত্ব ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। একই সঙ্গে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোসেন বলেন, চৌদ্দগ্রামকে মাদক কারবারিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে দেওয়া হবে না। মাদক ব্যবসা, পাচার কিংবা এর পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি আরও বলেন, মাদকসংক্রান্ত তথ্য পুলিশকে জানাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। থানায় ‘অভিযোগ বক্স’ স্থাপন করা হয়েছে। পরিচয় গোপন রেখেও কেউ মাদক কেনাবেচা বা সেবনের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিতে পারবেন। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চৌদ্দগ্রাম সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় মাদক পাচার ঠেকাতে সীমান্তবর্তী ও গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর কথাও জানান ওসি। তাঁর ভাষ্য, মাদকের চালান যাতে সীমান্তপথে চৌদ্দগ্রামে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য পুলিশের টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।কুমিল্লা জেলা পুলিশের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক এলাকায় পর্যায়ক্রমে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক র্যালি, সমাবেশ ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চৌদ্দগ্রামের কর্মসূচিকে সেই বৃহত্তর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই স্থায়ী ফল পাওয়া সম্ভব নয়। মাদকের চাহিদা কমানো, তরুণদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা, পরিবারে নজরদারি বাড়ানো এবং মাদক কারবারিদের সামাজিকভাবে প্রতিহত করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা মাদকমুক্ত চৌদ্দগ্রাম গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং মাদক কারবারিদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
মাদক শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এর সঙ্গে পরিবার, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়ও জড়িত। ফলে মাদক প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।
সমাবেশ শেষে চৌদ্দগ্রামের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে একটি র্যালি বের করা হয়।