নব্বইয়ের দশকে গ্রামীণ বাংলায় বিয়ের মূল আকর্ষণগুলোর একটি ছিল অলংকৃত রিকশায় চড়ে বর-কনের যাতায়াত। রঙিন কাগজ, কৃত্রিম ফুল আর জরি দিয়ে সাজানো রিকশায় চড়ে নতুন বউ নিয়ে বরের বাড়ি ফেরার দৃশ্যটি ছিল যেমন মনোমুগ্ধকর, তেমনই আনন্দদায়ক। ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট উপজেলাজুড়েও একসময় বিয়ের মৌসুমে রিকশার এই বর্ণিল উপস্থিতি চোখে পড়ত। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যেতে বসেছে এই সোনালী ঐতিহ্য।
নব্বইয়ের দশকে হালুয়াঘাটের গ্রামগঞ্জের মেঠো কিংবা কাঁচা রাস্তায় চলাচলের অন্যতম প্রধান বাহন ছিল রিকশা। বিয়ের দিন সুন্দর করে সাজানো রিকশায় চড়ে বর কনের বাড়িতে যেতেন এবং বিয়ের কাজ শেষে কনেকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরতেন। পুরো পথজুড়ে বর-কনের এই গমন দেখতে রাস্তার দুই পাশে ভিড় জমাতেন উৎসুক মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা। সেই দিনগুলোতে বরযাত্রীদের মধ্যেও রিকশায় চড়ার এক অন্যরকম আমেজ ও মেঠো পথের আনন্দ বিরাজ করত।
তবে বর্তমানে হালুয়াঘাট উপজেলার সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটেছে। কাঁচা রাস্তাগুলোর বেশিরভাগই এখন পাকা ও প্রশস্ত সড়ক। উন্নত যোগাযোগের কারণে গ্রামীণ জীবনে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। এখন আর বর-কনেকে রিকশায় চড়ে যেতে দেখা যায় না; স্থানটি দখল করে নিয়েছে সাজানো প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস কিংবা হাইটেক যানবাহন।
স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠদের মতে, রাস্তাঘাটের উন্নতির ফলে মানুষের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য এসেছে ঠিকই, কিন্তু হারিয়ে গেছে নব্বইয়ের দশকের সেই সহজ-সরল ও বর্ণিল স্মৃতিগুলো। আধুনিক যানবাহনের ভিড়ে রিকশায় চড়ে বউ আনার সেই সোনালী দিন এখন কেবলই স্মৃতির পাতায় বন্দি এক নস্টালজিয়া।