বাড়ির আঙিনায় আহত অবস্থায় পড়ে থাকা একটি ঈগল পাখিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যায় প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর নজরে। এরপর বিলুপ্তপ্রায় এই বন্যপ্রাণীটি সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার পর কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে উদ্ধার করা ঈগল পাখিটিকে চিকিৎসা দিয়ে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত ১৩ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুলিয়ারচর পৌরসভার তাতারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ইসরাত জাহান প্রেমার বাড়িতে আহত অবস্থায় পাখিটি পড়ে যায়। পাখিটির অবস্থা দেখে তিনি সেটিকে বাড়িতে রেখে সংরক্ষণ করেন। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন ।
সেই পোস্টটি পরে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর নজরে আসে। পাখিটি বিলুপ্তপ্রায় হওয়ায় সেটিকে সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং নিরাপদে হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়।এরপর উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে গত ১৬ আগস্ট রাতে কুলিয়ারচর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. বৃষ্টি পণ্ডিতের নেতৃত্বে পাখিটিকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর প্রাণিসম্পদ দপ্তরে পাখিটির প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকালে পাখিটিকে কুলিয়ারচর বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বন বিভাগের করিমগঞ্জ শাখার অফিস সহায়ক সুমন চৌধুরী প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে পাখিটি বুঝে নেন।কুলিয়ারচর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. বৃষ্টি পণ্ডিত বলেন, পাখিটিকে উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী পরিচর্যা ও সংরক্ষণের জন্য বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসিন খন্দকার বলেন, আহত পাখিটির বিষয়ে জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। পরে পাখিটি উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।বন বিভাগের করিমগঞ্জ শাখার অফিস সহায়ক সুমন চৌধুরী বলেন, প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে পাখিটি বুঝে নিয়েছি। বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী পাখিটির পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।