কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর পৌরশহরের সদর কুলিয়ারচর বাজার এলাকার কৃতী সন্তান মো. আকরাম হোসেনের বর্ণাঢ্য পুলিশ ক্যারিয়ারে যুক্ত হলো আরও একটি গৌরবময় অধ্যায়। বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) আকরাম হোসেনকে গ্রেড-১ পদমর্যাদায় পদোন্নতি দিয়েছে সরকার।
রোববার (২৩ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী তাঁকে গ্রেড-১ পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এর আগে একই দিন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এ পদোন্নতি দেওয়া হয়।
বর্তমানে আকরাম হোসেন বাংলাদেশ পুলিশের অর্থায়ন শাখার অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর যোগদানপত্র দাখিল করতে হবে। যোগদানের তারিখ থেকেই এ আদেশ কার্যকর হবে।
আকরাম হোসেন বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদানের পর কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর ডিআইজি থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পান। সে সময় তাঁকে সুপারনিউমারারি বা সংখ্যাতিরিক্ত পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পরে তাঁকে পুলিশ সদর দপ্তরে পদায়ন করা হয়।
পেশাগত দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) অর্জন করেছেন। শিক্ষাজীবনেও তাঁর রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
পুলিশের ক্ষেত্রে গ্রেড-১ পদমর্যাদা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এ পদমর্যাদা সচিব বা সিনিয়র সচিবের সমতুল্য। সাধারণত পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) গ্রেড-১ মর্যাদা পেয়ে থাকেন। তবে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত আইজিপিদেরও এ মর্যাদা দেওয়া হয়ে থাকে।
কুলিয়ারচরের একটি স্থানীয় জনপদ থেকে উঠে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা, বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে যোগদান এবং দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের পেশাগত জীবনের নানা ধাপ পেরিয়ে আকরাম হোসেন এখন পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একজন। তাঁর গ্রেড-১ পদে উন্নীত হওয়ার খবরে কুলিয়ারচরে আনন্দ ও গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, কুলিয়ারচরের সন্তান হিসেবে আকরাম হোসেনের এ অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, পুরো এলাকার জন্যও গর্বের বিষয়। মেধা, দক্ষতা ও দীর্ঘদিনের পেশাগত নিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি যে অবস্থানে পৌঁছেছেন, তা কুলিয়ারচরের তরুণ প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকবে।