রাজধানীর দক্ষিণখান থানার কাওলা এলাকার বিভা একাডেমি রোড (হাজি বাড়ি রোড) এলাকায় রাস্তার জায়গা দখল, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) এর গুরুতর লঙ্ঘন এবং রাজউকের নির্মাণ বিধিমালাকে উপেক্ষা করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর উঠেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে কর্মরত হেলাল ও সাজেলসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি চাকরির আড়ালে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের প্রভাব এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি আতিকুলের ছত্রছায়ায় হেলাল-সাজেলরা দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের মাধ্যমে ভবনটি নির্মাণ করেন। এলাকাবাসীর দাবি, নির্ধারিত রাস্তার অংশ দখল করে এবং প্রয়োজনীয় সেটব্যাক ও অন্যান্য নির্মাণ বিধি উপেক্ষা করে ধাপে ধাপে ভবনটির সাড়ে সাত তলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ভবনটি নির্মাণের সময় একাধিকবার মৌখিক আপত্তি জানানো হলেও প্রভাবশালী মহলের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি। তাদের অভিযোগ, রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী পর্যাপ্ত খোলা জায়গা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে, যা আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের দাবি, অভিযুক্তদের কেউ কেউ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে কর্মরত থাকার সুবাদে ঘুষ ও দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি, স্বর্ণ ও চোরাচালান-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কর্মক্ষেত্রে অসদাচরণের মতো নানা অভিযোগের সঙ্গে জড়িত বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।
এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রধান কার্যালয় বলাকা ভবনে কর্মরত হেলালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, “কাওলা এলাকার প্রায় সব ভবনই কোনো না কোনোভাবে রাজউকের নিয়ম অমান্য করে নির্মাণ করা হয়েছে।” তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযোগে উল্লেখিত প্রভাবশালী ব্যক্তি আতিকুলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, কাওলা এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজউকের ইমারত পরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে ভবনটির বিরুদ্ধে রাজউক আইন, ১৯৫৩ এবং বিদ্যমান ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের (মোবাইল কোর্ট) মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হতে পারে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভূমিকম্পসহ যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা এড়াতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনিয়ম ও বিধি লঙ্ঘনের মাধ্যমে নির্মিত ভবনটির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তাদের মতে, এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ও সমানভাবে আইন প্রয়োগ করা না হলে রাজধানীর সুশৃঙ্খল নগরায়ণ, জননিরাপত্তা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে রাজধানীতে সুশৃঙ্খল নগরায়ণ ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।