এমপিও নীতিমালা–২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পেশাগত শৃঙ্খলা, পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালন এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। নীতিমালায় দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা আছে—শিক্ষকতা একটি পূর্ণকালীন পেশা; এর পাশাপাশি সাংবাদিকতা, কাজী পেশা কিংবা অন্য কোনো লাভজনক ও সময়সাপেক্ষ কাজে যুক্ত থাকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
কিন্তু সেই নীতিমালার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে সিলেট জেলার ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ—একই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তিনটি পেশা ও সুবিধা একসঙ্গে ভোগ করে চলেছেন, অথচ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কার্যত নীরব।
অভিযোগের মুখে যিনি, সূত্রমতে, তাজপুর ইউনিয়নের আবুল কালাম আজাদ একই সময়ে—
একটি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে নিয়মিত রাষ্ট্রীয় বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন, তাজপুর ইউনিয়নের সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত কাজী হিসেবে বিয়ে নিবন্ধন ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করছেন, পাশাপাশি সাংবাদিকতা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।
এমপিও নীতিমালার আলোকে একজন শিক্ষক যেখানে দ্বিতীয় কোনো পেশায় যুক্ত হতে পারেন না, সেখানে একই ব্যক্তি কীভাবে একাধিক সরকারি ও পেশাগত সুবিধা ভোগ করছেন—তা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের ঝড় উঠেছে।
নীতিমালা বনাম বাস্তবতা, শিক্ষা প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকতা একটি পূর্ণকালীন দায়িত্ব, কাজী ও সাংবাদিকতা উভয়ই সময়, উপস্থিতি ও সক্রিয় সম্পৃক্ততা দাবি করে, তিনটি দায়িত্ব একসঙ্গে পালন মানেই শিক্ষকতার সময় ও দায়িত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।
তাদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে এটি শুধু নীতিমালা লঙ্ঘন নয়—রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনার প্রতি সরাসরি অবহেলার ইঙ্গিত।
প্রশ্ন প্রশাসনের দিকে,স্থানীয় সচেতন মহলের তোলা প্রশ্নগুলো আরও ভয়াবহ— এমপিও অনুমোদনের সময় এসব তথ্য গোপন করা হয়েছিল কি? সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিস, রেজিস্ট্রার অফিস ও প্রশাসন কি বিষয়টি জানত না? নাকি জেনেও প্রভাবশালী পরিচয় বা অন্য কোনো কারণে চুপ ছিল? একজন ব্যক্তি একাধিক সরকারি সুবিধা নিলে সেটি কি রাষ্ট্রীয় অর্থের সম্ভাব্য অপব্যবহার নয়?
বক্তব্য নেই, নীরবতা গভীর, অভিযোগের বিষয়ে আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য দেননি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে উপজেলা শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট অবস্থান বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
তদন্ত না হলে নজির হবে—আশঙ্কা, এলাকাবাসী ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল সতর্ক করে বলছেন , এখনই যদি নিরপেক্ষ তদন্ত না হয় এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে এটি ভবিষ্যতে এমপিও নীতিমালাকে কার্যত কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ করে দেবে।
তাদের দাবি, অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, সংশ্লিষ্ট নথি ও নিয়োগ যাচাই, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এমপিও স্থগিত/বাতিলসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা। ওসমানীনগরবাসীর প্রশ্ন এখন একটাই—এমপিও নীতিমালা কি সবার জন্য সমান, নাকি কিছু মানুষের জন্য আলাদা নিয়ম?