ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন-মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে আমার লেখা ইতিহাসের বাঁকে বাংলাদেশ। বইয়ের পান্ডুলিপিখানা দেখার জন্য প্রদান করলাম। আমি বরিশাল থেকে ১৯৭৭ সালে ঢাকায় আসার পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সাদেক হোসেন খোকা ভাইয়ের এলাকায় বসবাস শুরু করি। সেই থেকে খোকা ভাইয়ের সাথে ভালো এবং সু-সম্পর্ক। আমার দৃষ্টিতে খোকা ভাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্পন্ন একজন বিবেকবান মহান মুক্তিযোদ্ধা ও নেতা। তাকে দেখেছি ধনী-গরিবসহ সকল পেশার মানুষের সাথে হাসিমুখে কথা বলতে এবং মানুষের কথা শুনতে ও সহায়তা দিতে। তিনি কর্মী এবং অনুসারীবান্ধব মানুষ ছিলেন এবং ছিলেন মানবদরদী। আমার প্রতি তাঁর দায়িত্ব পালনের একটি বিষয় প্রকাশ্যে তুলে না ধরলে নিজেকে অকৃতজ্ঞ মনে হয়,তাই তুলে ধরলাম। ১৯৯৭ সালের ৩ মার্চ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কতিপয় খাঁটি রাজাকার ষড়যন্ত্রমূলক এবং সাজানো কয়েকটি ধারায় আমার নামে মিথ্যা একটি মামলা দেয় এবং মতিঝিল থানা পুলিশ আমাকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বিতীয় তলার লাইব্রেরী থেকে গ্রেপ্তার করে। আমার স্ত্রী খোকা ভাইয়ের বাসায় যান এবং বাসায় গিয়ে বিষয়টি বলেন। এরপর খোকা ভাই আমার স্ত্রীর হাতে ৫০০০ টাকা দেন এবং মরহুম আইনজীবী হাবিবুর রহমান মন্ডলের কাছে ফোন করেন। খোকা ভাই আমার জন্য অন্তত ১০ বার ফোন করেছেন এবং সেকথাগুলো আমার স্ত্রীর কাছে আমি শুনেছি। ১৬ দিনের মাথায় আমি জামিনে বের হই। বাসায় না গিয়ে বিবেকের তাড়নায় আগে যাই খোকা ভাইয়ের সাথে দেখা করতে। তিনি জানতে চাইলেন আমি বাসায় গিয়েছি কিনা। উত্তরে বললাম জিনা ভাই বাসায় যাই নাই। একথা শুনে তিনি আমার সাথে একটু রাগারাগি করলেন। আমি বললাম ভাই আপনার সাথে দেখা না করে বাসায় যাওয়া আমার বিবেকের তাড়নায় বাধা দেয়। এরপর তিনি ৫০০০ টাকা বের করে আমার হাতে দিয়ে বলেন যাও বাসায় গিয়ে আরাম করো। বিশেষভাবে উল্লেখ করতেই হয়। বরিশালের কয়েকজন বিএনপির নেতার জন্য ঢাকায় এবং বরিশালে গিয়েও ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করেছি। তাদের সাথে পায়ে হেঁটেও চলেছি। তারা আজ অনেক অর্থ-সম্পদের মালিক এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন। দুঃখ হয় তাদের কাছ থেকে সূতা পরিমান সহযোগীতা পাই নাই কিন্তু তাদের জন্য অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। নিজের উন্নয়নের দিকে না তাকিয়ে তাদের সুবিধার জন্য যৌবনের মূল্যবান সময়গুলো নষ্ট করেছি। যাইহোক খোকা ভাই ছিলেন আমার একজন যোগ্য অভিভাবক। শহীদ মিনারে খোকা ভাইয়ের জানাজায় যখন ছিলাম তখন যে কিরকম খারাপ লেগেছে তা ভাষায় বুঝাতে পারবো না। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল তাঁর সাথে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগদান করার। অনেকে বাস্তবতা স্বীকার করতে বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ মনে করেন বা ভয় পান। আমি লজ্জা পাই না,বরং বাস্তবতা তুলে ধরায় বড় আনন্দ পাই এবং সত্যি বলতে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নাই। আমি বিশ্বাস করি-মহান আল্লাহপাক এবং মানুষ কোন অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না। ভয় পাইলে পাবো একমাত্র মহান আল্লাহপাককে এবং বাস্তবতা স্বীকার করব মহান আল্লাহপাকের প্রতি বিশ্বাসী থেকে। যাইহোক খোকা ভাইয়ের সাথে সম্পর্কের মূল্যায়নের সেই ধারাবাহিকতার আলোকে তাঁর সু-সন্তান ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের সাথেও ভালো সম্পর্ক এবং তিনিও ভালো জানেন। খোকা ভাই বেঁচে থাকলে ইতিহাসের বাঁকে বাংলাদেশ বইয়ের পান্ডুলিপিখানা তাকেই দেখাতাম। তিনি যেহেতু নেই,সেহেতু তাঁর প্রতিচ্ছবি মনে করে ২৮/৭/২৬ ইং-তারিখে তাঁর সন্তানের অফিসে গিয়ে খোকা ভাইয়ের সুযোগ্য সন্তানের হাতে বইয়ের পান্ডুলিপিখানা দেখার জন্য দিতে পেরে খুব আনন্দবোধ মনে করছি এবং মনে হলো খোকা ভাইয়ের হাতের ছোঁয়া পেয়েছি। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরে মহান মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের মূল্যায়ন এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি জুলাই শহীদদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তাদের তালিকা করছেন এবং সম্ভাব্য সহায়তা দিয়ে উপকৃত করছেন ও পরবর্তী সহায়তার জন্য বিভিন্ন প্রকারের পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন। অফিসে গিয়ে দেখলাম কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন এবং মানুষের সাক্ষাৎ নিয়ে নিয়ম তান্ত্রিক বিষয়গুলো সমাধান করে দিচ্ছেন এবং যেটা সম্ভব হবে না-সরাসরিভাবে সেটা না করে দিচ্ছেন। দোয়া করি-মহান আল্লাহপাক তাঁকে আরো মর্যাদার আসনে নিয়ে যাক। সেই প্রত্যাশা রেখেই শেষ করলাম।